পার্টির ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এমনকী বিধায়ক, সাংসদরাও নন। পার্টি থাকলেই সব থাকবে। হাওড়ার দলীয় অনুষ্ঠানে বিধায়কদের না দেখে এমনই মন্তব্য করলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “পার্টিই প্রথম, পার্টিই শেষ কথা। পার্টি থাকলেই বিধায়ক, সাংসদ থাকবে।” এর পাশাপাশি এই অনুষ্ঠান থেকে তিনি জানান, সংখ্যালঘুরা বিজেপির সঙ্গে আসছে। তাই দায়িত্ব বাড়ছে। আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। এছাড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “রয়েল বেঙ্গল টাইগার এখন দিল্লিতে আরশোলা টিকটিকিদের দলে ঢুকছে।”
মঙ্গলবার হাওড়া গ্রামীণ জেলা পার্টি অফিস মনসাতলায় নতুন ভবনের ভূমি পূজা উপলক্ষে এসে তিনি এমনই মন্তব্য করেন। শমীক জানান, বাঙ্গালীদের উপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থা নেই বলে রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস পর্যন্ত মিছিল করতে হচ্ছে কালীঘাট তৃণমূলকে। রাজ্যে জয়ের পর এবার তিনি স্থানীয় স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলের ডাক দেন। আগামী নির্বাচনে হাওড়া জেলা পরিষদ ও হাওড়ার পঞ্চায়েতগুলি দখলেরও ডাক দেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সংখ্যালঘুরা বুঝতে পেরেছে আগামী ২০ বছরে কেন্দ্র এবং রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। আমাদের সঙ্গে ঘর করতে হবে। তাই তারা এগিয়ে আসছেন। ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু আসনে আমাদের প্রার্থী শাখারভ সরকার জয়ী হয়েছেন। নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘুরা এগিয়ে এসেছেন। সেখানেও এক লাখের উপর মার্জিন হয়েছে। তাই দায়িত্ব বড় হচ্ছে। আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। যারা ভেবেছিলেন বিজেপি আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা জুড়ে সংঘর্ষ হবে, আজকে দেখছেন পশ্চিমবঙ্গে শান্তি বিরাজ করছে।”
শমীক আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে কোনও বিরোধী নেই। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস মিছিল করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাঁর এক শিষ্য বলেছিলেন এমন একটা সময় আসছে পশ্চিমবঙ্গ ৫০ শতাংশ মানুষ উর্দু ভাষায় কথা বলবেন। আসলে উনি বাঙালিদের উপর ভরসা না রেখে পার্ক সার্কাসে চলে গেছেন উর্দুভাষীদের উপর ভরসা রাখতে।”
মমতার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “ভবানীপুর থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত হাঁটতে না পারলে ভবানীপুর থেকে রাসবিহারী পর্যন্ত যান। চিন্তার কোনও কারণ নেই। রাজ্য সরকারের পুলিশ আপনাকে অন্তত রক্ষা করবে। আপনার সঙ্গে যারা আছেন, যারা সঙ্গ ছেড়েছেন তারা কেউ তো বাইরে বেরোচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, পুলিশের পক্ষ থেকে টিএমসি নেতাদের হেলমেট দিতে। যাতে অন্তত ডিম থেকে বাঁচতে পারেন।” শমীকের কটাক্ষ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বলতেন। স্বঘোষিত বাঘিনী বলতেন। তিনিই এখন দিল্লিতে গিয়ে কাঁকড়া, আরশোলা, টিকটিকিদের মিছিলে ঢুকে পড়েছেন।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আগামীদিনে হাওড়া জেলা পরিষদ দখল করতে হবে, পঞ্চায়েতগুলো জিততে হবে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোট গণনার সময় পুলিশ বিডিও অফিসারদের উপস্থিতিতে বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ হয়েছিল। মহিলা কর্মীদের রাত ১টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে তাদের সার্টিফিকেট কেড়ে পরাজিত ঘোষণা করেছিল। প্রতিহিংসা নয়, সেই সকল মানুষকে চিহ্নিত করার বার্তা দিলেন শমীক। তাঁর কথায়, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু যারা আমাদের হেনস্তা করেছেন তাদের ভালোবেসে আদর করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের দলের। দলের কাজ করবে। শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর খাটের তোলা থেকে কত টাকা বেরিয়েছে সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে চলবে না। যাঁরা আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তাঁদের অধিকার লুট করতে হবে।”
পালাবদলের পর রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান শমীক। পাশাপাশি বাংলাদেশে ১২টি দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও এদিন আদি কর্মীদের দলে ফের আহ্বান জানান শমীক। ভূমি পূজোয় দুই বিধায়ক উপস্থিত না থাকায় তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “পার্টি থাকলে বিধায়ক থাকবে। পার্টি থাকলে সাংসদ থাকবে। স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং থাকবে। পার্টিই প্রথম কথা, পার্টিই শেষ কথা। অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক পদ পেলেই নেতা হওয়া যায়। নেতা সাজা যায় কিন্তু নেতা হওয়া যায় না।” যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের পতাকা বহন করেছে তাঁদের কিছু ভুলভ্রান্তি থাকলেও দলে নেওয়ার বার্তা দেন শমীক ।
