নিজস্ব প্রতিবেদক · ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২:২৭ অপরাহ্ন
সড়কে চলতে গিয়ে কারও প্রাণ যাবে না, প্রতিটি যাত্রা হবে নিরাপদ এ প্রত্যাশা নিয়েই পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। কিন্তু সিলেট বিভাগের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থামছে না। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ২৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬৩০ জন। এর মধ্যে মে মাসে ৫১ জন এবং আগস্টে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার এই চিত্র সড়কের নিরাপত্তাব্যবস্থা, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরের বিষয়গুলোকে আবারও সামনে এনেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সিলেটের নয় মাসের পরিসংখ্যান বলছে, সচেতনতামূলক উদ্যোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩২টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন, মার্চে ২৯টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন, এপ্রিলে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন, মে মাসে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন, জুনে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন, জুলাইয়ে ২৮টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন, আগস্টে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন এবং সেপ্টেম্বরে ২৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
মাসভিত্তিক হিসাবে মে মাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এরপর আগস্ট মাসে। এ দুই মাসেই নিহত হয়েছেন ৯৮ জন, যা নয় মাসের মোট প্রাণহানির প্রায় ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাসে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এসব মাসে প্রাণহানি বেশি হওয়ার পেছনে কী কী কারণ কাজ করেছে, তা নিশ্চিত করতে দুর্ঘটনার ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অসতর্কতা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সড়কের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি বিভিন্ন সময় সামনে আসে। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
সিলেট বিভাগের মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও দ্রুতগতিতে চলাচলের মধ্যে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গতিসীমা কার্যকর করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
গত ৮ আগস্ট ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ নয়জন নিহত হন। এ ধরনের দুর্ঘটনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা তদারকির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে। দুর্ঘটনার পর তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সিলেটেও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর নগরের পায়রাস্থ মুহিবুর রহমান একাডেমিতে আয়োজিত শিক্ষার্থী সমাবেশে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ করা জরুরি। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি ও চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে কর্মসূচি পালন করলেই হবে না, সারা বছর সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক ও সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
