সোমবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের দুই দিদিকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ৪২ বছর বয়সি ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব সিংভূম জেলার ধলভূমগড় থানা এলাকার বাবইদা গ্রামে। খুনের পর পালানোর চেষ্টা না করে অভিযুক্ত যুবক নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম স্বরূপ টুডু। নিহত দুই দিদির নাম দুলারি সোরেন (৫২) এবং লক্ষ্মী মান্ডি (৫০)। দু’জনেই বিবাহিতা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত স্বরূপ গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু দিন ধরে মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন বলে দাবি। একা থাকা ভাইয়ের চিকিৎসা ও দেখভাল করতেই বাপের বাড়ি এসেছিলেন দুই দিদি।
রবিবার রাতে অসুস্থতার কারণে বাড়িতে এক ‘ওঝা’ বা তান্ত্রিককে ডেকেছিলেন স্বরূপ। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে পুজোপাঠ চলে। দুই দিদিও সেই পুজোয় অংশ নিয়েছিলেন। পুজো শেষ হওয়ার পর দুলারি ও লক্ষ্মী ঘুমিয়ে পড়েন। অভিযোগ, সোমবার ভোরের দিকে কুড়ুল দিয়ে ওই দুই ঘুমন্ত দিদির ওপর চড়াও হন স্বরূপ। এলোপাথাড়ি কোপে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত স্বরূপ পালানোর কোনও চেষ্টা করেননি। সোজা ধলভূমগড় থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সামনে খুনের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামশেদপুরের এমজিএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়।
ধলভূমগড় থানার ওসি ধীরাজ কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবক বেশ কিছু দিন ধরেই মানসিক ভাবে কিছুটা অস্থিতিশীল ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অন্ধবিশ্বাস, তন্ত্রসাধনা বা ডাইনি প্রথার কারণেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ওসির কথায়, “তদন্ত এখনও চলছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং কেন এই জোড়া খুন, তা তদন্ত শেষ হলেই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে।” অভিযুক্তকে বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁকে জেরা করে খুনের প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
