রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন দেয়ালটি ছিল বেদখলে। সেটাকে দখলমুক্ত করে নতুন রূপ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। দেয়ালে আঁকা হয়েছে বিখ্যাত সব মানুষের প্রতিকৃতি। সে চিত্র সামনে আসতেই মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন অনেকে। আবার সমালোচনাও হয়েছে কিছুটা।
প্রথম ধাপে ওই দেয়ালে আঁকা হয়েছিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ ১০ গুণীর প্রতিকৃতি। এবার সেখানে আরো তিনজনের প্রতিকৃতি যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লিকবি জসীমউদ্দীন ও কবি জীবনানন্দ দাশ। তবে এই সংযোজনের ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে আগের একটি প্রতিকৃতি। তিনি সঞ্জীব চৌধুরী। প্রথম ধাপে তার ছবিটিও আঁকা হয়েছিল। সেটা এবার মুছে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় অনেকেই সমালোচনা করছেন। সঞ্জীব চৌধুরী বাংলা গানে জীবনঘনিষ্ঠ এক ধারার অন্যতম কারিগর। গানের সুরে তিনি জীবন ও প্রতিবাদের কথা বলে গেছেন। সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে ছিল তার সৃষ্টি। সেই গুণী মানুষের প্রতিকৃতি একবার এঁকে আবার মুছে ফেলায় নিন্দা জানাচ্ছেন অনেকে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সঞ্জীবের সহচর বাপ্পা মজুমদার। তারা একসঙ্গে ‘দলছুট’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এই ব্যান্ডের হয়ে তারা বহু নন্দিত গান উপহার দিয়েছেন। গতকাল এক বার্তায় বাপ্পা লেখেন, 'সঞ্জীব দা! দাদা গো! আপনার মতো আমিও বলি, ‘নো কমেন্ট’।'
এরপর আজ আরেকটি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বাপ্পা। সেই বার্তায় তিনি লেখেন, ‘সঞ্জীব দা, আপনি মানুষের হৃদয়ে। ওটাই সবচেয়ে বড় স্থান।’ বাপ্পার ওই প্রতিক্রিয়ার কমেন্ট বক্সে সংগীতের আরো অনেকেই একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সংগীতশিল্পী নকীব খান, কিশোর দাস, গীতিকবি শেখ রানা, অনুরূপ আইচসহ অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে সেখানে অন্য প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখানে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে সঞ্জীব চৌধুরীর সময়ের একটা বিশাল ফারাক আছে। অনেকে এখানে বলেছেন কেন আইয়ুব বাচ্চু নেই, কেন আজম খান নেই। তরুণদের নিয়েও আমাদের ভাবনা আছে। তাদের প্রতিকৃতিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
