‘আরশোলা’দের সমর্থনে সুর চড়ানোয় শাস্তির খাড়া নেমে এসেছে অভিনেতা ইমরানের খানের বিরুদ্ধে। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করেছে মুম্বই পুলিশ। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন আমির খানের ভাগ্নে। এই ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত নেটভুবন। কেউ ইমরানের সমর্থনে আওয়াজ তুলেছেন তো কেউ আবার সুর চড়িয়েছেন অভিনেতার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সোশাল মিডিয়ায় মুম্বই পুলিশকে কটাক্ষ করে কিরণ রাওয়ের ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট, ‘কী দারুণ! এটাই মুম্বই পুলিশ?’ ধিক্কার জানিয়েছেন হৃত্বিকের প্রিয়তমা সাবা আজাদ। উলটো সুর, অভিনেত্রী পায়েল রোহোতগি, পরিচালক ও ‘ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ’-এর প্রধান উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত।
আমির খানের প্রাক্তন স্ত্রী কিরণ রাও ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশের ঘোর বিরোধী। মুম্বই পুলিশের সমালোচনার পাশাপাশি এক ইনফ্লুয়েন্সারের পোস্ট শেয়ার করেছেন। যেখানে ইমরানের সমর্থনে লেখা, ‘এখন তাঁর বয়স ৪৩ বছর। দীর্ঘ ৪০ বছর ভারতে রয়েছেন, পড়াশোনা করেছেন, কাজ করেছেন। সাফল্য, ব্যর্থতা, প্রেম-ভালোবাসা, লড়াই সবই তো এদেশে।’
সাবা আজাদ এই ঘটনায় তো রীতিমতো তাজ্জব বনে গিয়েছেন। মাত্র এক লাইন শব্দ খরচেই সুর চড়িয়েছেন সাবা। ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থরা যখন ইমরানের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তখন তাঁকে দেশছাড়া করতে একেবারে আদা জল খেয়ে নেমেছেন অভিনেত্রী পায়েল রোহোতগি।

‘বেকার যুবক’ কটাক্ষ করে পায়েল সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছেন, “ওঁর বোঝা উচিত বোকার মতো কোনও কাজ করা উচিত নয়। তিনি ভারতীয় নন, একজন মার্কিন নাগরিক। তার ওপর আপনি ভারতে থাকছেন, এখানে কাজ করছেন, বিয়েও করেছেন। কিন্তু আমার মনে হয়, আপনি হয়তো ভিসা নেননি, অথবা ব্যাপারটা কী, তা আমি ঠিক জানি না। বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে নাকি অন্য কিছু। প্রতিবাদস্থলে যাচ্ছেন কেন? বেকার অভিনেতা এধরনের প্রতিবাদের মঞ্চকে প্রচারের আলোয় আসার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। কারণ সেখানে সংবাদমাধ্যম উপস্থিত থাকে।”
সুরে সুর মিলিয়ে পরিচালক ও ‘ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ’-এর প্রধান উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিতের দাবি, ‘আমাদের দেশের কর্তৃপক্ষ, ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক তাঁকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি সহমত পোষণ করছি। যে ব্যক্তি নিজের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে এসেছেন, তিনি যদি নিজের অধিকার সম্পর্কেই না জানেন, তাহলে বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। একজন ভারতীয় হিসেবে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে হলে প্রথমে আপনাকে ভারতীয় হতে হবে। আর আমার মনে হয়, এটি আসলে একটি শিক্ষণীয় বিষয়।’
আরও যোগ করেন, ‘এমনভাবে সকলে মাঠে নেমে পড়েছিলেন যেন শিবাজি পার্কে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছেন। তাই নাগরিকদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করার অধিকারের নামে আমাদের সংবিধান ও আইনকে উপহাসের বিষয় করে তুলেছে ভারত সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
ইমরনাকে ‘দেশদ্রোহী’ বললেন মহাভারত খ্যাত অভিনেতা গজেন্দ্র চৌহান। তাঁর মতে, “দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাসঘাতকদের এখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে, অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমির খানের ভাগ্নে, যিনি বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং এ দেশে নাম, অর্থ ও খ্যাতি অর্জন করেছেন, এত কিছুর পরেও তিনি ভারতে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (OCI)হিসেবে বসবাস করছিলেন। অথচ, মূলত তিনি একজন মার্কিন নাগরিক।”
Mumbai, Maharashtra: On actor Imran Khan asked to leave India, Actor and former FTII chairman Gajendra Chauhan says, “I would say that this is a matter of great joy. I am feeling very happy that the hidden traitors in the country have been asked to leave from here. Imran Khan, who is Aamir Khan’s nephew and has acted in many films, earned a name, money, and fame here, despite all that, he was living in India as an Overseas Citizen of India (OCI). Originally, he is a US citizen. The Foreigners Regional Registration Office (FRRO) found that he is not an Indian citizen. Despite that, he went to Azad Maidan to participate in protests organized by the CJP. Upon further investigation, it was confirmed that Imran Khan is not an Indian citizen…”
— IANS (@ians_india) October 15, 2026
