আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এবার ৭৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমায় বর্ণিল রঙ ও সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষ। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে দেবীর আবাহন ও পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
এর মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রাজ মন্দিরে এবার মূল মন্দিরসহ প্রায় দেড় একর জমিতে তৈরি করা হয়েছে ১৬০টি প্রতিমা।
আয়োজকদের দাবি, এটিই হতে যাচ্ছে বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় ও দর্শনীয় দুর্গাপূজার আয়োজন।
পূজা ঘিরে এখন প্রতিটি মণ্ডপ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে উঠেছে। প্যান্ডেল নির্মাণ, রঙ-তুলির নিখুঁত আঁচড়, বর্ণিল আলপনা ও দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জার কাজ এখন শেষপর্যায়ে।
কবুতরখালীর রাজ মন্দির প্রাঙ্গণে ১৬০ প্রতিমার এ বিশেষ আয়োজন দেখতে পূজার আগেই দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে।
টানা পাঁচ মাস ধরে ১৪ জন শিল্পী-কারিগরের অক্লান্ত পরিশ্রমে জীবন্ত রূপ পেয়েছে প্রতিমাগুলো। দেব-দেবীর পাশাপাশি পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক নানা চরিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে টেরাকোটার মাধ্যমে।
কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়ির চিকিৎসক দম্পতি ২০১৬ সালে প্রথমে মাত্র ৪০টি প্রতিমা দিয়ে এই ব্যতিক্রমী পূজার সূচনা করেন। এবার সেখানে স্থান পেয়েছে ১৬০টি প্রতিমা। মন্দিরের বিশাল প্রাঙ্গণজুড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এসব দেব-দেবীর প্রতিমা।
শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই নয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে গোটা প্রাঙ্গণে টানানো হয়েছে দেশের বরেণ্য গুণীজনদের ছবি এবং বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক ও উপদেশমূলক বাণী।
আয়োজক ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ উৎসব। দুর্গাপূজাকে সব ধর্মের মানুষের একটি সার্বজনীন মিলনক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক ও মানবিক বার্তাগুলো মানুষের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি আমরা।
ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি এই আয়োজনকে ঘিরে নানা সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী মায়েদের সুবিধার্থে মন্দিরে রাখা হয়েছে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। এছাড়া উৎসবের দিনগুলোতে প্রতিদিন বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি থাকছে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং অন্যান্য সমাজসেবামূলক কার্যক্রম।
মঠবাড়িয়া উপজেলা মন্দির মঠ শ্মশান সংস্কার উন্নয়ন কমিটির সদস্য সচিব সুমন্ত হাওলাদার সুমন বলেন, শারদীয় আয়োজন আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে। পূজা ঘিরে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রবিউল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রত্যেক মণ্ডপে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে। সিসি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয়সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।