আব্দুর রব, বড়লেখা : মৌলভীবাজারের বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব-দৌলতপুর গ্রামে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাগের ডগায় চলছে বিশাল টিলা কেটে মাটি বিক্রি। প্রকাশ্যে দিবালোকে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে টিলাখেকো চক্র ট্রাকে-ট্রাক্টরে প্রাকৃতিক টিলার মাটি পাচার করলেও রহস্যজনকভাবে সংশ্লিষ্টরা রয়েছে নির্বাক।
অভিযোগ রয়েছে টিলাখোকো চক্র নিকটবর্তী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে ম্যানেজ করেই প্রাকৃতিক টিলা ধ্বংস করছে। রাস্তার পার্শে প্রকাশ্যে বিশাল টিলা সাবাড় করে দেওয়া হলেও শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান জানালেন তিনি কিছুই জানেন না।
সরেজমিনে উপজেলার পূর্ব-দৌলতপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ভূগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রায় ৩/৪শ’ মিটার অদূরে মৃত আলকাছ আলীর মালিকানাধীন ২৫/৩০ ফুট উচু প্রাকৃতিক একটি টিলার ওপরে ৬/৭ জন নারী-পুরুষ শাবল দিয়ে খুঁচিয়ে মাটি নিচে ফেলছে। সেখান থেকে ট্রাকে-ট্রাক্টরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশের নিচু জমি ভরাট করছে মাটি পাচারকারি চক্র। ইতিমধ্যে টিলার সিংহভাগ সাবাড় করা হয়েছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে গাছপালা, প্রাকৃতিক পরিবশে ও জীববৈচিত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাটি শ্রমিকরা জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে (পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র) ম্যানেজ করে মাটির ঠিকাদার টিলা কেটে চড়া দামে বিভিন্ন মালিকের ভিটা ভরাট করে দিচ্ছে। তারা দৈনিক মজুরিটুক্ইু পাচ্ছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ জানান, অনেকদিন ধরে টিলাটি কাটা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসেছিলেন বলে শূনেছেন। এখনও টিলা কাটা চলতে থাকার খবর শুনে তিনি বলেন, তাহলে পরিবেশের লোকজন এসে কী ব্যবস্থা নিল।
শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইসকান্দার হাবিবুর রহমান জানান, এব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না, দেখেননি। টিলা কাটা কোনেভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। খোঁজ নিয়ে দেখতেছেন।
এব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, এই টিলা কর্তনের ব্যাপারে তিনি অবহিত নন। কেউ তাকে জানায়নি। এইমাত্র জানলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
