দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তির চাপ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। চলতি বছরে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন। সব মিলিয়ে এ বছর ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়েছেন ৯২ হাজার ৪০৩ জন।
অক্টোবরের ১০ দিনেই ৫৮ মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮ জন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩, জুলাইয়ে ৩৬, জুনে ১৩ এবং মে মাসে একজন মারা যান। বছরের প্রথম দুই মাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ১ হাজার ৩০ জন। এ ছাড়া খুলনায় ৩০৪, চট্টগ্রামে ২৯৩, বরিশালে ২৩৬, রাজশাহীতে ১৬০, রংপুরে ৮৪ এবং ময়মনসিংহে ৭০ জন ভর্তি হয়েছেন।
এক দিনে দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১ হাজার ১৬২
এদিকে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৫৮ জন। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে রোগী ভর্তির হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৫১৯, চট্টগ্রামে ২৪৩, সিলেটে ১৪০, বরিশালে ১২১, খুলনায় ৮৫, ময়মনসিংহে ৭৮, রংপুরে ৫০ এবং রাজশাহীতে ৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন।
সন্দেহজনক হাম রোগী দুই লাখের বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন।
এ সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে। পরীক্ষার মাধ্যমে ২২ হাজার ৪২১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
ডেঙ্গু ও হাম-দুই রোগেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। রোগের বিস্তার রোধে নজরদারি জোরদার, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিআলো/শিলি