হিউস্টন টেক্সাসের সবচেয়ে বড় শহর। মেক্সিকো উপসাগর থেকে কিছুটা ভেতরে, জলপথে ঘেরা বিস্তীর্ণ সমতলে শহরটির অবস্থান। জলপথ ও বাণিজ্যকে ঘিরে যে শহরের বিকাশ শুরু হয়েছিল, তা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
বিশ্বের কাছে হিউস্টনের পরিচয় আরও নানা কারণে। শহরটির কাছে রয়েছে নাসার জনসন স্পেস সেন্টার। চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য রয়েছে টেক্সাস মেডিকেল সেন্টার। জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্য ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় কর্মজগৎ। ফলে জীবিকার সন্ধানে যেমন মানুষ এখানে আসেন, তেমনি আসেন উচ্চশিক্ষার জন্য। শহরটির খ্যাতির পেছনে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি রয়েছে সেই মানুষগুলোর শ্রম, যাঁরা এখানে এসে নতুন জীবন গড়েছেন।
১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম থেকে হিউস্টনে আসেন অরুণ রায়। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজ নেন একটি রেস্তোরাঁয়। গ্রিল কুক হিসেবে খাবার তৈরি ছিল তাঁর দায়িত্ব।
রেস্তোরাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত ফাস্ট ফুড ব্র্যান্ড Jack in the Box-এর একটি শাখা। বার্গার, টাকো, স্যান্ডউইচসহ নানা খাবার বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে কাজ করতে করতে একসময় এই ব্র্যান্ডের রেস্তোরাঁ ব্যবসায় পার্টনার হন তিনি। তাঁর জীবনের এই দুটি সময়ের মাঝখানে রয়েছে পড়াশোনা, কাজ এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্যবসাকে কাছ থেকে জানার অভিজ্ঞতা।
একটি রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরি করতে হয় সময় মেনে। কর্মীরা নিজেদের কাজ শেষ করেন পরস্পরের ওপর নির্ভর করে; গ্রাহক অপেক্ষা করেন খাবার ও সেবার জন্য। অরুণ রায় সেই পরিবেশে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। আর এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে পরে ব্যবসার বড় পরিসরে যুক্ত হওয়ার পথ দেখায়।
২০০৭ সালে মার্ক হোমস ও আলি কেশানির সঙ্গে অরুণ রায় প্রতিষ্ঠা করেন A3H Foods। টেক্সাসের এই পার্টনারশিপ গড়ে তোলা হয় Jack in the Box-এর রেস্তোরাঁ অধিগ্রহণ ও পরিচালনার জন্য। তিনজনেরই ছিল মূল প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা। অরুণ রায়ের জন্য উদ্যোগটির বিশেষ অর্থ ছিল: ছাত্রাবস্থায় যে ব্র্যান্ডের একটি শাখায় চাকরি নিয়েছিলেন, সেই ব্র্যান্ডের রেস্তোরাঁয় এবার তিনি পার্টনার।
২০১১ সালের জুনে তাঁর ব্যবসার বিস্তার নিয়ে একটি তথ্য প্রকাশ করে Houston Chronicle। পত্রিকাটি জানায়, সে সময় হিউস্টন ও দক্ষিণ টেক্সাসে Jack in the Box-এর ৯৬টি রেস্তোরাঁর ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন অরুণ রায়। তাঁর পার্টনারশিপে পরিচালিত রেস্তোরাঁগুলো বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি অন্যদের জীবিকার পথও খুলে দিয়েছেন তিনি।
হিউস্টনে অরুণ রায়ের পরিচয় কেবল ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাংলাদেশি কমিউনিটির কাজেও তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, হিউস্টনের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলা ভাষার পাঠ, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও একসঙ্গে মিলিত হওয়ার প্লাটফরম ছিল এই সংগঠন দু’টি।
হিউস্টনে অরুণ রায়ের পরিচয় কেবল ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাংলাদেশি কমিউনিটির কাজেও তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত রয়েছেন। একসময় তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, হিউস্টনের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সেই সেন্টারের সঙ্গে অরুণ রায়ের সম্পৃক্ততা এখনো রয়েছে। ২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ আমেরিকান সেন্টারের জন্য আয়োজিত তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। প্রায় ৪০০ মানুষ সে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেদিন ছয় লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন কমিউনিটির কাজে অরুণ রায়ের চার দশকের অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।
তথ্যসূত্র: Houston Chronicle
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::হিউস্টনের অরুণ রায় যেভাবে ৯৬টি রেস্তোরাঁর মালিক হলেন first appeared on DesheBideshe.