আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৭ সালের আইপিএলের আগে বড় চমক দিল দিল্লি ক্যাপিটাল্স। দলের সহকারী কোচ ও ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হলেন ভারতের প্রাক্তন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। এই প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোচিংয়ের দায়িত্ব নিতে চলেছেন ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ সালের একদিনের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দিল্লির প্রধান কোচ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করবেন তিনি।
দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যুবরাজের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে আইপিএল নিলামে তৎকালীন দিল্লি ডেয়ারডেভিলস তাঁকে ১৬ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল। সেই সময় আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার ছিলেন যুবরাজ। এবার নতুন ভূমিকায় সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিতেই ফিরছেন তিনি।
দিল্লি ক্যাপিটালসের তরফে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যুবরাজ। তিনি বলেন, “দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে আমি উত্তেজিত। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে আমার পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। মালিকদেরও ভালভাবে চিনি। তাই এই সুযোগ আমার কাছে বিশেষ।”
সৌরভের সঙ্গে কোচ হিসেবে জুটি বাঁধার বিষয়েও আশাবাদী যুবরাজ। তাঁর কথায়, “এবার কোচ হিসেবে দাদার সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। কোচিংয়ের প্রতি আমার সত্যিকারের আগ্রহ রয়েছে। এই প্রতিভাবান দলটির সঙ্গে কাজ শুরু করার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। দলের সাফল্যে অবদান রাখতে চাই।”
২০০০ সালে সৌরভের অধিনায়কত্বেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল যুবরাজের। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালের একদিনের বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এবার সেই সৌরভের সঙ্গেই নতুন ভূমিকায় কাজ করবেন যুবরাজ।
দিল্লি ক্যাপিটালসের চেয়ারম্যান ও সহ-মালিক পার্থ জিন্দাল যুবরাজের নিয়োগ নিয়ে বলেন, “যুবিকে দিল্লি ক্যাপিটালস পরিবারে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ও ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার। বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটের বহু প্রতিভাবান তরুণকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ওর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
যুবরাজের অভিজ্ঞতা, জয়ের মানসিকতা এবং ক্রিকেটারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা দলের কাজে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন জিন্দাল।
খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তরুণ ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন যুবরাজ। শুভমন গিল, অভিষেক শর্মা ও প্রভসিমরন সিংয়ের মতো ক্রিকেটারদের ব্যাটিংয়ের উন্নতিতে তাঁর পরামর্শের কথা উঠে এসেছে একাধিকবার। ঋষভ পন্থও কঠিন সময়ে যুবরাজের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন।
২০১৯ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া যুবরাজ ভারতের হয়ে ৩০৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক, ৪০টি টেস্ট এবং ৫৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। আইপিএলে ১৩২টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২,৭৫০ রান ও ৩৬টি উইকেট।
সাম্প্রতিককালে ব্যর্থ হয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। ২০২৫ সালে পঞ্চম এবং ২০২৬ সালে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করে দলটি। ফলে নতুন মরশুমের আগে কোচিং বিভাগে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল ফ্র্যাঞ্চাইজি। প্রধান কোচ হিসেবে সৌরভ এবং সহকারী ও ব্যাটিং কোচ হিসেবে যুবরাজের নিয়োগের মাধ্যমে দলে অভিজ্ঞতা ও জয়ের মানসিকতা ফেরাতে চাইছে দিল্লি।
এখন দেখার, সৌরভ-যুবরাজের জুটি আগামী মরশুমে দিল্লি ক্যাপিটালসকে প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
