মাদারীপুরে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে মিলন সরদার নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কালকিনি উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আলামিন সরদার (৩৫) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।
নিহত তাইজুল সরদার (২৬) মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কুলপদ্দী গ্রামের মৃত রুস্তম সরদারের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মিলন সরদার কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের চাচা সোবহান সরদার বলেন, ‘আমার ভাতিজা তাইজুল সরদারকে কালীগঞ্জ বাজারে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে মিলন সরদার ও তার লোকজন। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কালীগঞ্জ বাজারে তাইজুল ও আলামিনকে পেয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন সরদারের নেতৃত্বে জহির চৌকিদার, মহাসিন চৌকিদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৭ জন তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাইজুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাইজুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আলামিন সরদারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় তাইজুলের পরনে বোরকা ছিল বলে জানা গেছে। তবে তিনি কেন বোরকা পরেছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
