লিগ পর্বে ভারতের কাছে ৩৪ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই ভারতের বিপক্ষেই ফাইনালে নামতে হচ্ছে স্বাগতিকদের। ব্যবধানটা যে সহজে ঘোচানো সম্ভব নয়, তা জানা বাংলাদেশেরও। তবে আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চায় আনা আলোনসোর দল। আজ বেলা ৩টায় শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু হবে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনাল।
ফাইনালের আগের অনুশীলনে বাংলাদেশ কোচের মনোযোগ ছিল রক্ষণ গুছিয়ে রাখা, বলের নিয়ন্ত্রণ না হারানো এবং ভারতের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোর দিকে। তাঁর বিশ্লেষণে, বল হারানোর পর ভারতকে দ্রুত দৌড়ে আক্রমণে ওঠার সুযোগ দিলেই বিপদ বাড়ে। বল হারালেই বিপদ বাড়বে বাংলাদেশের।
গতকাল অনুশীলনের পর রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে আলোনসো বলেন, ‘আমার চোখে, (লিগের ম্যাচে) ভারত পুরো ৬০ মিনিট দ্রুতগতিতে খেলার মতো সক্ষম ছিল। আর ফাস্ট ব্রেকে যখন ওরা ছুটে আসছিল, আমরা ওদের আক্রমণ থামাতে পারিনি। তাই আমার কাছে মূল বিষয় হলো ভারতকে যেন ফাস্ট ব্রেকে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।’
ভারতকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের কোচ। তবু আগের ম্যাচের ফলই ফাইনালের চিত্র ঠিক করে দেবে, এমনটা মনে করেন না তিনি। শিষ্যদের কাছ থেকে আরও সংগঠিত খেলা এবং পুরো সময় মনোযোগ ধরে রাখার প্রত্যাশা তাঁর, ‘আমার বিশ্বাস আগের ম্যাচের চেয়ে আমরা আরও ভালো করতে পারব। আর আমরা ভারতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারব বলেই মনে করি। তাই সেটাই আমার লক্ষ্য—আরও ভালো খেলা এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া।’
ভারতের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে আক্রমণে অযথা ভুল এড়ানোর কথাও বলেছেন কোচ। তাঁর মতে, এই পর্যায়ের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ দরকার বাংলাদেশের।
খেলোয়াড় মাসুদা আক্তারের ভাবনাও কাছাকাছি। আগের ম্যাচে যে ভুলগুলো হয়েছে, সেগুলো শুধরে মাঠে নামতে চান তাঁরা। মাসুদা বলেন, ‘আমরা যদি এই ভুলগুলো সংশোধন করতে পারি, অবশ্যই কালকে আমরা ভালো একটা ম্যাচ খেলতে পারব।’
তবে ভারতের বিপক্ষে জয়ের নিশ্চয়তা না দিয়ে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশার কথাই বলেছেন তিনি, ‘কিন্তু আমরা সবাই যদি সবার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, অবশ্যই একটা ভালো রেজাল্ট করব।’
ভারতের শক্তি সম্পর্কে সতর্ক বাংলাদেশ, তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে জবাব দিতে চায়।
