নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গত কয়েক মাসে বিভিন্ন বয়সের পাঁচ ব্যক্তির নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দানা বেঁধেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের জীবিত উদ্ধার করা না যাওয়ায় এবং এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় নিরাপত্তা সংকট ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বয়সী পাঁচজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং মুঠোফোন ব্যবহার করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও দ্রুত কোনো সুরাহা না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সবশেষ ঘটনাটি ঘটে ১৯ অক্টোবর, যখন শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর এলাকার একটি খালের পাড়ে ঝোপের ভেতর থেকে ১২ বছর বয়সী তারেক নামের এক শিশুর দেহ উদ্ধার হয়। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী জিয়াউর রহমানের ছেলে এবং ১৫ অক্টোবর সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করেছে। তিনি চর মরজাল গ্রামের পশ্চিমপাড়ার জামাল মিয়ার ছেলে।
এর আগে ১৮ অক্টোবর ভোরে আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরমান ফকিরের গলিত দেহ উদ্ধার করা হয়। ভাটিবদরপুরের বাসিন্দা আরমান ১১ অক্টোবর অটোরিকশা চার্জ দিয়ে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। একই এলাকায় ১৩ অক্টোবর মরজাল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে রহমত উল্লাহ (১৮) নামের এক কিশোরের দেহ পাওয়া যায়, যিনি বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং পরিবারের মতে গোসল করতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গিয়েছিলেন।
গত ৫ অক্টোবর আদিয়াবাদ ইউনিয়নের বড়বিল এলাকা থেকে অটোরিকশাচালক মনির হোসেনের (১৭) দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় পিবিআই তদন্ত চালিয়ে নরসিংদীর ঘোড়াশাল ও কুমিল্লার লালমাই থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই মনিরকে হত্যা করা হয়েছিল এবং পরে তার অটোরিকশার চারটি ব্যাটারিও উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ২৯ জুন পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর থেকে সাত বছর বয়সী শিশু তাসকিয়ার দেহ উদ্ধার হয়, সে চার দিন আগে নিখোঁজ হয়েছিল।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, নিখোঁজের জিডি হলে পুলিশ গুরুত্বসহকারে প্রযুক্তিগত সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তিনি জানান, অপরাধীরা অনেক সময় অটোরিকশাচালকদের বেশি ভাড়ার লোভ দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। এ কারণে চালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রায়পুরা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বলেন, একের পর এক এমন ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকাবাসীকে কোনো গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
ধারাবাহিক এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে এবং জনমনে নিরাপত্তার আস্থা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা ছাড়া জনমনে স্বস্তি ফিরবে না বলে তারা মনে করছেন। পাশাপাশি তার সঙ্গে চলাফেরা করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্নভাবে খোঁজ চালানো হয়।
The post রায়পুরায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের রহস্যময় পরিণতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ appeared first on Daily Sangbad Chorcha.
