এক মাসের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন শাহেদ আহম্মেদ (৩৬)। শুক্রবার রাতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে শনিবার বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় তাঁর। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ফোন। পরিবারের সদস্যরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। অবশেষে রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন স্বজনেরা।
সৌদি আরবে বোমা হামলায় শাহেদের মৃত্যুর খবরে বগুড়ার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজনও ভিড় করছেন বাড়িতে।
নিহত শাহেদ বগুড়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায়। শাহেদ সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের চাচাতো ভাই মাসুম রানা জানান, গত দুই বছর ধরে সৌদি আরবের জেদ্দায় একটি কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন শাহেদ। এক মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। ছুটি শেষে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন।
মাসুম রানা বলেন, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে শাহেদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। সৌদি আরবে থাকা শাহেদের বাবা-মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তাঁরাও শাহেদের খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীরা বাড়িতে গেলে পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তাঁর মা ছাহেরা বেগম তিন মাস আগে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। শাহেদের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলী তাঁদের দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে শাহেদ ছিলেন ছোট।
শাহেদের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলী জানান, শনিবার বিকেলের পর থেকে স্বামীর মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সৌদি আরবে থাকা শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে তাঁরা স্বামীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
বগুড়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহুল কুদ্দুস ডিলু বলেন, শাহেদের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজনও বাড়িতে এসে খোঁজ নিয়েছেন।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, সৌদি আরবে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তির বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
