সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি নাগরিক বন্দী অবস্থায় রয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সম্প্রতি সৌদি আরবে দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি সামনে আসার পর বিস্তারিত তথ্য জানতে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে এবং রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর ঘটনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে বলে সরকার আশা করছে। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম।
শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে হস্তান্তর
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ এসে পৌঁছায়। এর আগে সকাল আটটার পর শাহেদ আহম্মদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
সেখানে উপস্থিত হয়ে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পরে সরকারের পক্ষ থেকে শাহেদ আহম্মেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীকে তার মরদেহ ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলায় বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. শাহেদ আহম্মেদ নিহত হন।
তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং কর্মস্থলে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।
হামলায় শাহেদসহ মোট দুজন বাংলাদেশি নিহত হন এবং আরও ২৪ জন আহত হয়েছিলেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি নিহত অপর ব্যক্তি। গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট তিনজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মোট ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শাহেদ ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বশেষ। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ আজ দেশে এসেছে।
আইনি অবস্থান ও সমন্বয়
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট করেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইনি কাঠামো ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং অন্য দেশের বিচারব্যবস্থায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করা বাংলাদেশের উদ্দেশ্য নয়। তবে বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দণ্ডিত হলে বা তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা বাংলাদেশের জন্য জরুরি ও আবশ্যক। তিনি জানান, কোনো বাংলাদেশি দণ্ডিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তা কূটনৈতিক চ্যানেলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং সাজা মওকুফের সুযোগ আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এককভাবে এসব জটিল বিষয় সমাধান করে না। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মস্থন মন্ত্রণালয় এবং আইনগত বিষয়গুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে থাকে। সৌদি সরকার বিভিন্ন সময়ে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা পাঠায়, সেই তালিকায় এই দুজনের নাম আছে কি না, সেটিও সরকার খতিয়ে দেখছে। সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও। এসব উইংয়ে প্রবাসীকল্যাণ বা শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তা
সৌদি আরবে বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। দেশটিতে সংঘাত বা যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রবাসী কর্মীরা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। সরকার চায় ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিককে যেন এমন নৃশংস ঘটনার শিকার হতে না হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো ও তা নবায়নের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হোক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোর কর্মতৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিটি মিশনে শ্রমকল্যাণ উইং রয়েছে যেখানে প্রবাসী কর্মীরা অভিযোগ জানাতে পারেন। কোনো মিশনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, কারণ প্রবাসীদের সহায়তা নিশ্চিত করা মিশন ও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। দেশটিতে তাঁর কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।
The post সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বন্দী appeared first on Daily Sangbad Chorcha.
