লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজার সর্বজয়া মন্ডপে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে দূর্গা মন্ডপ। ছবি: খবরের কাগজ
-->লক্ষ্মীপুরের ৬টি উপজেলার ৭৮টি মণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মণ্ডপগুলোতে পূজা উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মণ্ডপগুলোর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮টি, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি, রামগঞ্জ উপজেলায় ১৭টি, রায়পুর উপজেলায় ১৩টি, রামগতি উপজেলায় ১২টি এবং কমলনগর উপজেলায় ৩টি পূজামণ্ডপে এবার দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হতে যাওয়া এ উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসাহের আমেজ।
পূজামণ্ডপ নির্মাণ, সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূঁজা উদযাপন কমিটিগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। মণ্ডপগুলোতে পুলিশ আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর নিজস্ব সেচ্ছাসেবক বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপ এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া উর্ধ্বতন পুলিশ এবং এসএসবির একাধিক টহলটিম নিরাপত্তায় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আবু তারেক।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমীন নিপা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। সভায় পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শারদীয় দুর্গা উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি স্বপন নাথ ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা বলেন, ‘প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আমরা একত্রে কাজ করছি। অতীতের মত এ জেলায় শান্তিপুর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী তারা।’
অপরদিকে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চন্দ্রগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি শ্রী সমীর কর্মকারও একই ভাবে মতামত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’ এ সময় তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের প্রতি শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
সমীর কর্মকার বলেন, ‘সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে এবং অন্য সব ধর্মের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে পূজার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তারা সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।
রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/
