আন্তর্জাতিক: ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরটির একটি এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আগে বেসামরিক মানুষকে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে জোট। পাল্টা হুমকি দিয়ে হুথিরা বলেছে, সানায় হামলা হলে সৌদি রাজধানী রিয়াদে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সানার একটি নির্দিষ্ট স্থানে ‘বিশেষ অভিযান’ চালানোর আগে বেসামরিক মানুষকে সরে যাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হবে। পরে তিনি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এতে ইয়েমেনি অয়েল কোম্পানির স্থাপনা বা আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশনসংলগ্ন এলাকা চিহ্নিত করা হয়।
জোটের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে অভিযান কখন শুরু হবে বা এর পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
সৌদি জোটের ঘোষণার পর হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে পাল্টা সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, সানায় কোনো হামলা হলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে।
দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি হুমকিতে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের দুই নাগরিকও রয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে; হুথিরাও রিয়াদে হামলার কথা জানিয়েছে।
হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। পরবর্তী সময়েও রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সানার জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সৌদি জোট অভিযান চালালে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হুথিদের পাল্টা হামলার হুমকি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।
