সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ড ভারত-শাসিত কাশ্মীরের আওতাধীন সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবা অভিন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছে।
শাসন হিন্দু-জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা সৈয়দ দারাকশা আন্দরাবি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছে। এই বোর্ডের শীর্ষ সদস্যরাও বিজেপি মনোনীত।
আন্দ্রাবি নির্দেশনা দিয়েছেন- এখন থেকে জুমার দিন মসজিদগুলোতে কেবল একটি নির্দিষ্ট খুতবাই পাঠ করতে হবে, যা আগে থেকেই একটি কমিটি প্রস্তুত ও অনুমোদন করবে।
কাশ্মীরজুড়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা এটিকে ‘কাশ্মীরি মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে এই সমালোচনা খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অসম্পূর্ণ। এই প্রস্তাবটিকে বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক কোনো বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
এটি ভারতীয় রাষ্ট্রের একটি বড় প্রচেষ্টার অংশ, যার মাধ্যমে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কাশ্মীরি মুসলমানরা কীভাবে তাদের ধর্ম পালন করবে এবং নিজ স্বার্থের সঙ্গে মিলে যায় এমন ইসলাম চর্চাই কেবল উৎসাহিত করতে চায়।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, অভিন্ন খুতবার প্রস্তাবটি হলো ধারাবাহিক কিছু সরকারি হস্তক্ষেপের সর্বশেষ সংস্করণ, যার কিছু প্রকাশ্যে দমনমূলক, আবার কিছু বেশ সূক্ষ্ম ও প্রশাসনিক।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু লক্ষ্য মূলত একই রয়ে গেছে: ধর্মীয় স্থানগুলোকে এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে না দেওয়া, যেখান থেকে রাষ্ট্রবিরুদ্ধ কোনো আইডিয়া, মতপ্রকাশ বা কার্যক্রম ছড়াতে পারে।
কাশ্মীরের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানকার প্রতিরোধ আন্দোলন দীর্ঘকাল ধরেই ধর্মীয় স্থান ও বিশ্বাসের ভাষার ওপর নির্ভর করে আসছে।
মসজিদ মানেই কেবল ইবাদতের জায়গা নয়, এটি জনবক্তৃতারও একটি বড় মঞ্চ- রাষ্ট্র তা বহু দশক ধরেই ভালো করে বোঝে।
তাই রাষ্ট্র এমন এক ধরনের ধর্মচর্চাকেই কেবল অনুমোদন করে, যা হয় তাদের শাসনকে বৈধতা দেয়, না হয় দৈনন্দিন জীবনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নীরব থাকে। যে ধর্ম কেবল ‘হ্যাঁ’ বলতে জানে, কখনো ‘না’ বলে না।
নিপীড়িতদের সংগ্রাম
২০২৩ সালের একটি নিদের্শনার কথাই ধরা যাক। ওই নির্দেশনায় শুক্রবারের খুতবায় ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া ফিলিস্তিদের জন্য যেকোনো দোয়া কেবল আরবি ভাষায় করার নিয়ম করা হয়, কোনোভাবেই কাশ্মীরি ভাষায় নয়।
দোয়ার ভাষা নিয়ে এত কড়াকড়ি কেন? অথচ বেশিরভাগ কাশ্মীরিই আরবি মুখস্থ বলতে পারলেও এর অর্থ বোঝেন না।
কাশ্মীরা বরাবরই ফিলিস্তিনকে নিজেদের পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখে এসেছেন। আর রাষ্ট্রের ভয় ছিল, ফিলিস্তিনের করা কোনো দোয়া যদি মানুষ স্পষ্ট বুঝতে পারে, তাহলে তা শেষ পর্যন্ত কাশ্মীরেরই রাজনৈতিক রূপ নেবে। এখানে প্রার্থনা আর প্রতিবাদ যেন একে অপরের হাত ধরে চলে।
শ্রীনগরের মহররমের মিছিল নিষিদ্ধ করার পেছনেও একই গল্প খুঁজে পাওয়া যায়।
১৯৮৯ সালে ‘আইনশঙ্খলা’র অজুহাতে এই মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ২০২৩ সালে আবার চালুর অনুমতি পায়। এই নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে সরকারের ভয় ছিল যে, মহররমের মিছিলগুলো শেষ পর্যন্ত দখলদারিত্ববিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে।
তবে, এর চেয়েও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে মিছিলটি ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তগুলো। অংশগ্রহণকারীদের পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় যে, কোনো ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘উসকানিমূলক’ কথা বলা যাবে না এবং কোনো ‘নিষিদ্ধ সংগঠন’ বা ‘সন্ত্রাসী’র প্রতীক প্রদর্শন করা যাবে না।
কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত মানুষ, আদর্শ ও সংগঠনগুলোকে কোণঠাসা করতেই রাষ্ট্র এসব পরিভাষা ব্যবহার করে থাকে।
আগের বছরগুলোতে এই মিছিলে সেসব যুবকদের ছবি দেখা যেত, যারা ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন কিংবা ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন।
এই ধরনের দমনপীড়ন চাক্ষুষ করা এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সহজ। কিন্তু জুমার নামাজে একই ধরনের খুতবার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো কঠিন, কারণ এটি মিম্বরগুলো ভেঙে ফেলে না, বরং মিম্বরে দাঁড়িয়ে কে কী বলবে তার ওপর লাগাম টেনে ধরে। তবে জামিয়া মসজিদ বন্ধ রাখা আর এই খুতবার প্রস্তাব- দুটি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একটির সাফাই গাওয়া হয় ‘শৃঙ্খলা’র নামে, অন্যটির সাফাই গাওয়া হয় ‘শান্তি ও ঐক্য’র নামে। দুটোরই লক্ষ্য একটাই: বিশ্বাসের গণ্ডির ভেতর থেকে কাশ্মীরি মুসলমানরা কী বলতে পারবে আর কী পারবে না, তার সীমারেখা একেবারে নির্দিষ্ট করে দেওয়া।
মহররম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কারবালার কথা, যা বহু মুসলমানের কাছে জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের সংগ্রামের প্রতীক। কাশ্মীরিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবস্থাকে এর মাঝেই খুঁজে পেয়েছেন। তাই মিছিলটি কেবল তখনই ফেরার অনুমতি পেল, যখন তারা এই প্রতীকী প্রতিবাদ বন্ধ করতে রাজি হলেন।
কাশ্মীরে ইসলামের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কেবল দমন-পীড়ন দিয়েই নয়, বরং নানা পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেও চালানো হয়।
২০২৩ সালে, একই বিজেপি-নেতৃত্বাধীন ওয়াকফ বোর্ড হাশিম গিলানিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আনে। তিনি হাম্বলী মাজহাবের বিখ্যাত আইনবিদ, প্রচারক ও সুফি সাধক শায়েখ আবদুল কাদির গিলানির বংশধর হিসেবে পরিচিত।
কাশ্মীরিরা শায়েখ আবদুল কাদির গিলানিকে ‘দস্তগীর সাহেব’ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন এবং শ্রীনগরের খানিয়ার এলাকায় অবস্থিত তার মাজারটি কাশ্মীরের অন্যতম জনপ্রিয় জিয়ারত কেন্দ্র।
সেখানে এক এক বক্তব্যে হাশিম গিলানি বলেন, তিনি নাকি কাশ্মীর সম্পর্কে সহিংসতা ও সংঘাতের কথা শুনে এলেও এখানে এসে কেবল ‘শান্তি’ আর ‘উন্নয়ন’ দেখতে পেয়েছেন।
রাষ্ট্রের স্বাভাবিকতার ন্যারোটিভকে মানুষের মনে গেঁথে দিতে এই ধার করা আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের কাজে লাগানো হয়েছে। অথচ এই তথাকথিত ‘স্বাভাবিকতা’ তৈরি হয়েছে আমাদের জীবনের চরম অস্বাভাবিকতার ওপর দাঁড়িয়ে: চারপাশে সামরিক জুজুর ভয়, কারাগারে বন্দি প্রিয়জন, ভেঙে ফেলা ঘরবাড়ি, জব্দ করা সম্পত্তি এবং স্বজনদের মরদেহ পর্যন্ত ফিরে না পাওয়ার বেদনা।
হাশিম গিলানি একা নন। বাইরে থেকে স্পন্সর করে নিয়ে আসা আরও অনেক প্রচারক কাশ্মীরের মিম্বর ব্যবহার করে এমন সব কথা বলেছেন, যা রাষ্ট্র নিজে সরাসরি বললে মানুষ বিশ্বাস করত না।
কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে ভৌগোলিক সীমানা স্বয়ং ঈশ্বর নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তাই মানুষ চাইলেও তা বদলাতে পারে না- যার সহজ অর্থ হলো, ভারতের অংশ হিসেবে কাশ্মীরের ভাগ্যকে মেনে নিতেই হবে। আবার কেউ কাশ্মীরকে ‘ভারতের মুকুট’ বলে অ্যাখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কে এমন মহার্ঘ্য মুকুট স্বেচ্ছায় হাতছাড়া করতে চাইবে?
কেউ কেউ আবার কাশ্মীরকে শান্তিময় সুফি সাধকদের ভূমি বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে সহিংসতার কোনো জায়গা নেই- যেখানে তাদের মূল ইশারা থাকে কাশ্মীরিদের প্রতিরোধের দিকে, কিন্তু রাষ্ট্রের বর্বর সহিংসতা নিয়ে তারা সম্পূর্ণ টুঁ শব্দটিও করেন না।
যেসব আলেম এই ধারার ইসলামের কথা প্রচার করেন, তাদের পুরস্কৃত ও সামনে আনা হয়; আর যারা এর উল্টোটা করেন, তাদের কপালে জোটে জেল কিংবা মিম্বর হারানোর শাস্তি।
প্রকাশ্যে দমনপীড়ন
এই ওয়াকফ বোর্ড নিজে থেকেই একদিনে গড়ে ওঠেনি; এর পেছনে রয়েছে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দীর্ঘ ইতিহাস। ডোগরা আমলের শেষদিকে শেখ আবদুল্লাহর আন্দোলনের হাত ধরে ‘মুসলিম ওয়াকফ ট্রাস্ট’ নামে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পরে কার্যত তার দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের সম্পত্তিতে পরিণত হয়।
২০০৩ সালে পিডিপি-কংগ্রেস সরকার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নয় এবং মুখ্যমন্ত্রীকে এর চেয়ারম্যান বানায়।
এরপর ২০১৯ সালে পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে কাশ্মীরের নিজস্ব ওয়াকফ আইন বাতিল করে সরাসরি কেন্দ্রীয় আইন চাপিয়ে দেওয়া হয়, অথচ হিন্দু ও শিখ ধর্মের উপাসনালয় পরিচালনার পুরোনো আইনগুলো ঠিকই বহাল রাখা হয়।
এক শতাব্দীরও কম সময়ের মধ্যে কাশ্মীরের মসজিদগুলোর মালিকানা একটি জনকল্যাণ ট্রাস্ট থেকে রাজনৈতিক দল, সেখান থেকে স্থানীয় সরকার এবং পরিশেষে সোজা দিল্লির পকেটে চলে গেছে।
কয়েক দশক আগেকার কথা। রেডিও কাশ্মীর’-এ মহানবী (সা.)-এর জীবন নিয়ে বলতে যাওয়া এক বক্তাকে বদরের যুদ্ধের ইতিহাসটুকু বাদ দিতে বলা হয়েছিল- যে যুদ্ধে অল্পসংখ্যক সাহাবি মক্কার শক্তিশালী কুরাইশ বাহিনীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। সরকারি কর্তাব্যক্তিদের মনে সম্ভবত এই ভয় কাজ করেছিল যে, শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা মুসলমানদের বিজয়ের এই গল্পটি শুনলে কাশ্মীরিরা কেবল ইতিহাস হিসেবে তা নেবে না, এর ভেতরে নিজেদের বর্তমান অবস্থার মিল খুঁজে পাবে।
এই বোর্ডের থাবা পড়েছে ধর্মের অর্থনৈতিক দিকগুলোর ওপরও।
২০২২ সালের আগস্টে বোর্ড মসজিদগুলোতে তথাকথিত ‘অনৈতিক চর্চা’ নিষিদ্ধ করে। বোর্ডের লোকজন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বংশপরম্পরায় দায়িত্ব পালন করা খাদেমদের রাখা দানবাক্সগুলো পর্যন্ত জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
বোর্ড এই কাজটিকে ‘স্বচ্ছতা আনয়নের’ লেবাসে চালিয়ে দিলেও, মূলত এটি ছিল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আরেকটি বড় ধাপ।
এরপর আসে একেবারে রাখঢাকহীন দমনপীড়ন। যেমন- শ্রীনগরের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদকে বারবার তালাবদ্ধ করে রাখা। এর প্রধান গেটগুলোতে চাবি লাগিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই ধরনের দমনপীড়ন চাক্ষুষ করা এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সহজ। কিন্তু জুমার নামাজে একই ধরনের খুতবার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো কঠিন, কারণ এটি মিম্বরগুলো ভেঙে ফেলে না, বরং মিম্বরে দাঁড়িয়ে কে কী বলবে তার ওপর লাগাম টেনে ধরে।
তবে জামিয়া মসজিদ বন্ধ রাখা আর এই খুতবার প্রস্তাব- দুটি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একটির সাফাই গাওয়া হয় ‘শৃঙ্খলা’র নামে, অন্যটির সাফাই গাওয়া হয় ‘শান্তি ও ঐক্য’র নামে। দুটোরই লক্ষ্য একটাই: বিশ্বাসের গণ্ডির ভেতর থেকে কাশ্মীরি মুসলমানরা কী বলতে পারবে আর কী পারবে না, তার সীমারেখা একেবারে নির্দিষ্ট করে দেওয়া।
বিজেপির শাসন কাশ্মীরের অনেক কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে ঠিকই, তবে তারা আগের শাসকদের তৈরি করা অনেক বঞ্চনা ও নিয়ন্ত্রণও উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে গেছে।
এই কথাটি মনে রাখা জরুরি, কারণ সাধারণ আলোচনাতে প্রায়ই ধরে নেওয়া হয় যে, মোদির ক্ষমতায় বসা বা ২০১৯ সালে কাশ্মীরের নামেমাত্র স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমেই বুঝি সব ইতিহাসের শুরু।
অবশ্যই ওই ঘটনাগুলো বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তবে কাশ্মীরি মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে ভারতের এই আচ্ছন্নতা ও ভীতি অনেক পুরোনো এবং একেবারে শেকড় গেঁথে বসা।
কয়েক দশক আগেকার কথা। রেডিও কাশ্মীর’-এ মহানবী (সা.)-এর জীবন নিয়ে বলতে যাওয়া এক বক্তাকে বদরের যুদ্ধের ইতিহাসটুকু বাদ দিতে বলা হয়েছিল- যে যুদ্ধে অল্পসংখ্যক সাহাবি মক্কার শক্তিশালী কুরাইশ বাহিনীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন।
সরকারি কর্তাব্যক্তিদের মনে সম্ভবত এই ভয় কাজ করেছিল যে, শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা মুসলমানদের বিজয়ের এই গল্পটি শুনলে কাশ্মীরিরা কেবল ইতিহাস হিসেবে তা নেবে না, এর ভেতরে নিজেদের বর্তমান অবস্থার মিল খুঁজে পাবে।
একদিন থেকে দেখতে গেলে, বর্তমানের এই ‘অভিন্ন খুতবা’র প্রস্তাবটি হলো সেই পুরোনো শঙ্কারই নতুন এক সংস্করণ।
লেখক: আহমেদ বিন কাসিম হলেন একজন কাশ্মীরি লেখক।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মনিরুল হক ফিরোজ
