মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা বা অবরোধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তাভাবনা করার মধ্যেই কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে তা লক্ষ্য করে সরাসরি হামলার জন্য সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। খবর আল জাজিরার।
ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে আবারও ‘এপিক ফিউরি’-র মতো ব্যাপক বোমাবর্ষণ অভিযান চালাতে পারে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে তীব্র আক্রমণ চালানো হবে, নাকি নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বজায় রাখা হবে- তা নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে।
এর জবাবে শনিবার (২৪ অক্টেবার) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ আলী আব্দুল্লাহি জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগরে পুনরায় প্রবেশ করার সুযোগ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাদের সৈন্যদের পারস্য উপসাগরে প্রবেশের বিষয়ে কেবল স্বপ্নই দেখতে পারেন, যা তারা কবরে নিয়ে যাবেন। মার্কিন সরকারের দাবি অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে থাকলে তারা কেন নিজেদের বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ইরানের উপকূলের কাছে আনছে না- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই আট মাসের সংঘাতের জেরে মার্কিন ও ইসরায়েলি পদক্ষেপের জবাবে তাদের ‘কাদামাটিতে ডুবিয়ে মারা’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আলী আব্দুল্লাহি।
হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি সংকট
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলা অব্যাহত থাকায় ও যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। সম্প্রতি একাধিক সুপারট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায় স্বীকার ও মাইন হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তারা জানিয়েছে, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত আনা হলে তারা সমুদ্র তলদেশের ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ক্যাবল লক্ষ্য করে হামলা চালাবে।
একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মামের বিমানবন্দর ও শাইবাহ তেলক্ষেত্রে পুনরায় হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী।
ইস্তাম্বুলে শীর্ষ কূটনৈতিক বৈঠক
মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিকে নিয়ে এক সমন্বয় সভায় বসেন। সভায় মার্কিন বা ইরানি কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইরানে নতুন কোনো আক্রমণ এই যুদ্ধকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেবে। সামরিক হস্তক্ষেপ কোনো সমাধান নয় এবং কেউ এটিকে সমর্থন করছে না।
চারটি আঞ্চলিক দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি দখলদারিত্বই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মূল কারণ। তবে জার্মানি এই অস্থিরতার জন্য ইরান ও হুতিদের দায়ী করেছে।
ইস্তাম্বুল বৈঠক প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদ-সংলগ্ন মিডিয়া জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও ইউরোপকে আগে ছাড় দিতে হবে; মার্কিন প্রশাসন তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না।
