হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদের ধারার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘আমরাও তাদের আত্মার আত্মীয় মনে করে আনন্দ-উৎসবকে আরও সুন্দরতম করতে নির্বাহী ক্ষমতাবলে একদিন ছুটি বৃদ্ধি করে দিয়েছি। যেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৬৫টি পূজামণ্ডপে নিজের তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি জানান, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশরীরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শনে যাবেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আনন্দ উৎসব ভাগ করে নেবেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আরও বলেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রমাণ করেছেন, তারা কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের দাসত্ব করেন না। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, একসময় অনেকে মনে করতেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের শক্তি। তবে বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারা প্রমাণ করেছেন কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের অন্ধ আনুগত্য নেই।
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে একটি গোষ্ঠীর ভোট নিয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে বিরোধী দলকে অনুরোধ করব, আপনারা আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করুন এবং সরকারকে সহযোগিতা করুন।
মীর শাহে আলম বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিনা ভোটে বা রাতের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে না। সরকার জনগণের ভোট নিয়ে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন, স্বাস্থ্যসেবা, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
৫ বছর পর আবার জনগণের কাছে ভোট চাইবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিলে তারা সরকার গঠন করবেন, আর ভোট না দিলে বিরোধী দলে চলে যাবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনা হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন তৌফিক, সদস্যসচিব রোকন উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রামনারায়ণ কানু এবং মোকামতলার নয়ন চন্দ্র।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী হাইস্কুল মাঠে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করেন।
