কুমিল্লার দেবিদ্বারে ঐতিহাসিক ‘গুনাইঘর মুঘল মসজিদ’ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটির সুনিপুণ কারুকাজ ও মূল ফটক ইতোমধ্যেই খসে ও ধসে পড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুঘল আমলে নির্মিত এই মসজিদটি এলাকার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। চুন, সুরকি ও ছোট ইটের গাঁথুনিতে তৈরি মসজিদের দেয়ালের কাজ মুঘল স্থাপত্যশৈলীর সাক্ষ্য বহন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কোনো নজরদারি বা সংস্কার না থাকায় দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং শ্যাওলা ও গাছ জন্মেছে।
মসজিদটি দেবিদ্বার উপজেলার ৯নং গুনাইঘর ইউনিয়নে গুনাইঘর গ্রামে করিম বখশের বাড়িতে স্থাপিত। সম্প্রতি মূল ভবনের একাংশ ভেঙে ভেতরে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘এটা আমাদের গর্ব। এই মসজিদে আমাদের দাদা-পরদাদারা নামাজ পড়েছেন। চোখের সামনে এমন ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, দেখার কেউ নেই।
মসজিদের ইমাম জানান, ঝুঁকি নিয়েই মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করেন। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে।
সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো শাহাজ উদ্দিন সাজু বলেন, ‘এ মসজিদের নামে ৩০/৩৫ শতক জমি রয়েছে। সরকার চাইলে মসজিদটি মুঘল আমলের আদলে করতে পারে। আমাদের দাবি, পূর্ণ নির্মাণ করে ইতিহাস সংরক্ষণ করবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে অবহিত করে দ্রুত সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা দেওয়া এবং সংস্কার করা না হলে কুমিল্লার ৪০০ বছরের পুরোনো নিদর্শন চিরতরে হারিয়ে যাবে।
