আটক ব্যক্তিরা হলেন তরিকুল ইসলাম (৩৪), দুলাল হাওলাদার (৩৪), সুমন তালুকদার (২১), নুরনবী (৩০), এনায়েত করিম (৪০), মো. ওবায়দুল (২২), মামুন (২২), মো. লায়েক মিয়া (৫০) ও কবির হোসেন (৩০)। বন বিভাগ জানিয়েছে, তাঁদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন এলাকায়। শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার শ্যামা প্রসাদ রায় জানান, তাঁর নেতৃত্বে বনরক্ষীরা নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় কয়লাবোঝাই জাহাজটি আটক করেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মোংলার পশুর নদীর জয়মনি এলাকায় একটি মাদার ভ্যাসেল থেকে কার্গো জাহাজটিতে কয়লা বোঝাই করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা অন্য কোথাও নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে কয়লার প্রকৃত মালিকানা, পরিবহনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, জাহাজে থাকা কয়লার কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজস্ব ফাঁকি ও পরিবেশদূষণের শঙ্কা, সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী কয়লা আমদানি ও পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং নির্ধারিত পরিবহনসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
অন্যদিকে, সুন্দরবনের নদীতে কয়লা ছড়িয়ে পড়লে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়া এবং জলজ প্রাণীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আটক জাহাজটির মালিকানা, কয়লার আমদানিসংক্রান্ত নথিপত্র, পরিবহনের বৈধতা এবং নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে চলাচলের কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে কয়লার প্রকৃত মালিকানা ও পরিবহনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
The post সুন্দরবনে ২৬০ টন কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ আটক, হেফাজতে ৯ জন appeared first on ভোরের চেতনা.
