সরকারি দপ্তরে ১৩ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ঘাটতি, দায়িত্ব হস্তান্তর না করে আত্মগোপনের অভিযোগ, নিম্ন আদালতে সাত বছরের কারাদণ্ড। কিন্তু শুধু সন্দেহ ও হিসাবের গরমিল দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অপরাধ প্রমাণ হয় না। এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুককে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর আগে বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর একক বেঞ্চ ফৌজদারি আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসে ১৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা ৯৪ পয়সার আর্থিক ঘাটতি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই তিনি আত্মগোপন করেন।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হয়। বিচার শেষে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর লালমনিরহাটের বিশেষ জজ আদালত দুই ধারায় ওমর ফারুককে মোট সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল করেন তিনি।
আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বলেন, সরকারি অফিসে আর্থিক ঘাটতি পাওয়া গেলে বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তবে সন্দেহ যত জোরালোই হোক, তা কখনো প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না। অর্থ আত্মসাৎ বা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণে নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।
রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেন, লালমনিরহাটের প্রধান ডাকঘর থেকে ৯ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা মামলায় বলা হলেও ওই অর্থ আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল বা সেখানে গ্রহণ করা হয়েছিল, এমন সুনির্দিষ্ট নথিপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।
মামলার নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দেখতে পান হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধু আর্থিক অনিয়মের হিসাব কিংবা দায়িত্ব হস্তান্তর না করার বিষয় দিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অপরাধ প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
এসব বিবেচনায় নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করে ওমর ফারুককে খালাস দেন হাইকোর্ট।
