২০২৬ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অধ্যাপক রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনীতিতে বহিরাগত ধাক্কার প্রভাব কমাতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করে—এমন নতুন অর্থনৈতিক মডেল তৈরির জন্য তাদের এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের পুরস্কার ঘোষণা করে।
অ্যাকাডেমি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিজয়ীরা অর্থনীতির উত্থান-পতন মসৃণ করতে আমাদের সহায়তা করেছেন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় তাদের মডেলগুলো অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে।
১৯৪৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে জন্ম নেয়া হল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। অন্যদিকে, ১৯৫৫ সালে ম্যাসাচুসেটসের চিকোপিতে জন্ম নেওয়া উডফোর্ড কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
পুরস্কারের অর্থ হিসেবে তারা প্রত্যেকে ৬০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (৫ লাখ ৯৮ হাজার মার্কিন ডলার) পাবেন।
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার বলেন, তাদের কাজ বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারগুলোর বর্তমানে ব্যবহৃত অর্থনৈতিক মডেলগুলোর জন্য একটি স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই মডেলগুলোর সাহায্যে জ্বালানি সংকট বা পরিবারগুলোর ভোগব্যয়ের আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।’
মুদ্রাস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো তথাকথিত ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক’ (ম্যাক্রোইকোনমিক) চলকগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণের পরিবর্তে হল ও উডফোর্ড ‘ব্যষ্টিক অর্থনীতির’ (মাইক্রোইকোনমিকস) দিকে নজর দেন। অর্থনীতির ওপর ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর সিদ্ধান্ত কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করেন তারা।
তাদের মডেলগুলোর মূল ধারণা হলো, সঞ্চয় করা বা পণ্যের দাম নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে।
অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাক্রমে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতি সম্পর্কে নিজেদের পরিকল্পনা জানিয়ে মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এই ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ‘অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত’ করা সম্ভব।
এই পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক নাম ‘সেভেরিগেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস’।
আলফ্রেড নোবেল এই পুরস্কার চালু করেননি। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি প্রতিষ্ঠা করে। নোবেলের স্মরণে এই পুরস্কার দেয়া হয়।
এখন পর্যন্ত মোট ১০১ জন এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন নারী। ১৯৬৯ সাল থেকে দেয়া পুরস্কারগুলোর অর্ধেকেরও কম ক্ষেত্রে একজন মাত্র ব্যক্তি বিজয়ী হয়েছেন।
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কার প্রদান শেষ হলো।
শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগের দিন, বৃহস্পতিবার, কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
