পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান বিনিয়োগকারীরা
বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে টানা দরপতন ও অস্থিরতার প্রতিবাদে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এসময় পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ জন্য প্রথমে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) পুনর্গঠন করে সেখানে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার দাবিও জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পুরোনো ভবনের সামনে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। পুঁজিবাজারের টানা দরপতন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিসিএমআইএ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন। এ সময় বিসিএমআইএর সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম মানিকসহ বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন বললেন, আইসিবি পুনর্গঠনের পর সরকার থেকে নতুন করে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে পুঁজিবাজারকে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ উদ্যোগ বাজারে তারল্য বাড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার সংক্রান্ত ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্র করে নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নতুনভাবে গঠিত সম্মিলিত ব্যাংকের শেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম মানিক বলেছেন, দীর্ঘদিনের দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। অনেক বিনিয়োগকারী তাদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুঁজিবাজারের সংকট ও বিনিয়োগকারীদের দুর্দশা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাদের প্রস্তাবগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চান তারা।
এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে ১০ মিনিট সময় চেয়েছে সংগঠনটি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পেলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও আইসিবির মাধ্যমে বাজারে আর্থিক সহায়তা এবং পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা দাবিগুলো তুলে ধরব।
তিনি আরও বললেন, পুঁজিবাজারে উত্থান-পতনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বাজারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রমে বাজারের দরপতন ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই আইসিবির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রাস্টি প্রধানের পরিবর্তন করে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মানবন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতিতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিনের দরপতনের কারণে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
বিএসইসির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ডিএসইর তদন্ত কার্যক্রমের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজার থেকে দূরে থাকছে। একসময় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধী নন তারা।
তবে সুশাসন নিশ্চিত করার নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হয়রানি করা হলে বাজারের প্রতি আস্থা ফিরবে না। নিয়ম মেনে বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের শেয়ার কিনলেও তাদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে সংযম এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
পুঁজিবাজারে তারল্যসংকট মোকাবিলায় সরকারি পেনশন তহবিলের অর্থ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বাজারের কোম্পানিগুলো অবসায়নের জন্য পৃথক কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।


