গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়টি হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেছেন নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া। এ ঘোষণা দেয়ার পর পরই পদত্যাগ করেছেন কিম্বারলি গিলফয়েল। তাৎক্ষণিকভাবে এক্সে দেয়া পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। গিলফয়েল লিখেছেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার সময় শেষ হয়ে এলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমেরিকা প্রথম আন্দোলন এবং দেশের প্রতি আমার ভালবাসা কখনো শেষ হবে না। হোয়াইট হাউসের সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর মঙ্গলবারই তার প্রথম ব্রিফিং ছিল জাকারিয়ার। তবে এই ব্রিফিং ছিল সবচেয়ে কম সময়ের। কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকরা।
ওদিকে গিলফয়েলকে ঘিরে বিতর্ক গ্রিসের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে গ্রিক সরকারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গ্রিসের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর দেশটির বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের পর গিলফয়েলকে নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। পত্রিকাটি জানায়, গত মার্চে এথেন্সে এক নৈশভোজে গিলফয়েল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো দেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে, এমনকি গ্রিসের সরকারকেও। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোমানিয়ার সরকারের পতনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সময় গিলফয়েল নাকি বলেছিলেন, ‘আমরা যে কোনো দেশের সঙ্গে এমনটা করতে পারি। এখানেও তা করতে পারি।’
তবে গিলফয়েলের আইনজীবী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই কথোপকথনের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। পদত্যাগ করে গিলফয়েল এক্সের পোস্টে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, তার নাম, তার সুখ্যাতি ও সততাকে তিনি রক্ষার লড়াই করবেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর গ্রিসের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিসের সরকারের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করে। গ্রিসের জ্বালানিমন্ত্রী স্তাভরোস পাপাস্তাভরু ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তার বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত গ্রিসের সরকারকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। গিলফয়েলকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কথিত হুমকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গ্রিস এবং বলকান অঞ্চলের অন্যান্য দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানি সম্প্রসারণে তার কথিত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো।
বিতর্কের মধ্যে গ্রিক সরকার অবশ্য দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি দেয়া হয়নি। সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস বলেন, গ্রিক সরকারকে হুমকি দেয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োরগোস গেরাপেত্রিতিস এ ঘটনায় গিলফয়েলকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন। এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মিৎসোতাকিসের সরকারের সম্পর্ক নিয়ে বৃহত্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর প্রশ্ন, জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কতটা প্রভাব বিস্তার করছে গ্রিসের নীতিনির্ধারণে। তবে গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং গ্রিক সরকারের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।
