শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গ্রাম পুলিশের চাঁদা দাবি, গাছ কাটা ও মাছ লুটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাভোগ করেছেন এক বাবা ও তার ছেলে। মামলাটি হয়রানিমূলক দাবি করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, জমি দখলে নিতেই তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বাদীপক্ষ জমি জবর দখলের পাল্টা অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাটি উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোহাগপুর গ্রামের। মামলার বাদী ভজন সরকার ওই ইউনিয়নের একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য। আর বিবাদীরা হলেন- একই গ্রামের সন্তোষ সরকার ও তার চার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে সন্তোষ সরকার একই গ্রামের সুশীল সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে কয়েক দফায় জমি কেনেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে সুশীলের চাচাতো ভাই মেঘনাথ সরকার ও ভজন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমিতে মালিকানা দাবি করেন। একপর্যায়ে গত ফেব্রুয়ারিতে সন্তোষ সরকারের কেনা ও ভোগদখলে থাকা ২৫ শতক জমি তারা দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ১১ আগস্ট সন্তোষ সরকার ওই জমির দখল পুনরুদ্ধার করেন। এ নিয়ে পরদিন দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতন্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেন।
এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুলাইয়ের একটি ঘটনার উল্লেখ করে সন্তোষ সরকার ও তার চার ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন ভজন সরকার। অভিযোগে বলা হয়, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের ঔষধি গাছ কেটে ফেলেন। এছাড়া বাড়ির সামনের পুকুর থেকে ৭০ হাজার টাকার মাছ লুটের অভিযোগও করা হয়।
আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য নালিতাবাড়ী থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত বিবাদীদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সমন যথাযথভাবে তাদের কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাদীপক্ষ সমন গোপন করে ফেলায় তারা আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে সন্তোষ সরকার ও তার ছেলের কারাভোগ করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২৫ জুলাই অভিযোগে উল্লেখ করা ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলায় যে গাছ কাটার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোও ভজন সরকারের বাড়িতে ছিল না বলে জানান তারা।
গাছ কাটার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ জানতে চাইলে ভজন সরকার এই প্রতিবেদককে তা দেখাতে পারেননি। তবে তিনি সন্তোষ সরকারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে একাধিক মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।
সন্তোষ সরকার বলেন, তিনি সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তার অভিযোগ, ভজন সরকার ও মেঘনাথ সরকার জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিকার চেয়ে তিনিও পাল্টা মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই চন্দন জানান, তদন্তে এতগুলো গাছ কাটার ও চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য, বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সমন জারি করেন। বিবাদীপক্ষ আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
