পিরোজপুরে কেউ সংখ্যালঘু পরিচয়ে থাকবে না, সবার পরিচয় হবে আমরা পিরোজপুরের নাগরিক, বাংলাদেশের নাগরিক বলে মন্তব্য করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর।
তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং অধিকারবঞ্চিত অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের হাতে উপহারসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করছেন। ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের উন্নয়নে সবার আগে বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, জনগণ তাদেরই সমর্থন দেবেন। ভালো কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি রাজনীতিবিদদের জনসেবায় আরও উৎসাহিত করে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে রয়েছেন এবং তাদের কল্যাণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে কাজ করছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাশে ছিলেন। একইভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তারা সহযোগিতা করেছেন। দেশের স্বার্থে ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়তে ভবিষ্যতেও তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ বিভিন্ন সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাওয়া শাড়ি ও কাপড় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং পূজার আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
