একে একে খুলছে টঙ্গীর মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির রহস্য। ৭ বছরের শিশুটি আদালতে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে, সিঁড়িতে ঘটেছে ওই ঘটনা। মাদ্রাসাটির প্রত্যেকটি ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা থাকলেও সিঁড়ির কোনো অংশেই নেই সিসি ক্যামেরা। পুলিশ জানিয়েছে, যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়েছেন তারা। আর ১৭ লাখ টাকা লুটের ইস্যুতে কোন ব্যাংক থেকে টাকা তোলা হয়েছে? সিসি ফুটেজে টাকা নিয়ে কারও বের হবার দৃশ্য কেন নেই? এমন সব প্রশ্নের উত্তর নেই মাদ্রাসা চেয়ারম্যানের কাছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তারাও সিঁড়িতে কোনো ক্যামেরা পাননি। স্টার নিউজকে শুক্রবার ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমাস হোসেন জানান, তার ড্রয়ার থেকে খোয়া গেছে ১৭ লাখ টাকা। সেসময় তার দাবি ছিল, জমি কেনার জন্য ব্যক্তিগত এই টাকা রেখেছিলেন তিনি। তুলে এনেছিলেন ব্যাংক থেকে। মামলায়ও এমন অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান।
তিনি জানান, এখানে ভাঙচুর করেছে, লুটপাট হয়েছে। এখানে আমার জমি কেনা ১৭ লাখ টাকা ছিল।
তবে কক্ষের বাইরে রয়েছে সিসি ক্যামেরা। সামনের পুরো অংশই সেখানে দেখা যায়। ৩ দিন পার হলেও ভেতর থেকে ব্যাগ নিয়ে কেউ বের হয়েছেন, এমন কোনো দৃশ্য না থাকায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি অভিযোগকারী। কোন ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছিলেন? এমন প্রশ্নেরও মেলে না উত্তর।
ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমাস হোসেন বলেন, একদম আপনাদের আমরা চাঁদের আলোর মতো ইনশাআল্লাহ আপনাদের প্রমাণ দিয়ে দেব যে এটা হয়েছে। আমরা প্রমাণসহ আপনাদের ব্যাংকের নামও দেব।
ব্যাংক ইস্যুতে সহজ প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর না দিয়ে এভাবেই বারবার জবাব এড়াবার চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো।
তিনি বলেন, অ্যাকচুয়েলি এটা হচ্ছে, আমাদের মামলার ব্যাপার। কিন্তু ওদের মামলার ব্যাপারটা কিন্তু আপনারা বলেন না। ওরা যে মামলাটা করেছে, আমাদের শিক্ষকের বিরুদ্ধে, সেটা যে মিথ্যা-বানোয়াট। সেই এভিডেন্স আমরা বের করতেছি।
এদিকে পুলিশ বলছে, ভাঙচুরের প্রমাণ পেলেও টাকা লুটের কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
জিএমপি টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমরা তদন্ত করছি এবং আরও অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন রয়েছে। এটা আমরা সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করার পর বলতে পারব।
তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত দৃশ্য ফুটে উঠবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
