রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন এলাকা সাজেকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, মামলা প্রত্যাহার এবং ২২ অক্টোবরের হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, গত ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
তাঁদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, উজোবাজারের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া; বাজার থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের মারধরে আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা; এ ছাড়া সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া; তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করা এবং আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতারা অভিযোগ করেন, উজোবাজার এলাকা দিন-রাত ঘেরাও করে রাখা হয়েছে এবং সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাজারের দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে মালামাল গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, অত্যাচারের ভয়ে উজোবাজার এলাকা থেকে শতাধিক পরিবার বাড়িঘর ও দোকানপাট ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, শনিবার সকালে ডিপুপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝরণা চাকমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর সড়ক অবরোধের সময় সাংবাদিকদের সামনে সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাঁকে অপহরণ বা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন নেতারা। এ ক্ষেত্রে তাঁরা কল্পনা চাকমার ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা অবিলম্বে পাঁচ দফা দাবি মেনে নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে সাজেকবাসীর ন্যায়সংগত আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী এবং একটি পাহাড়ি সংগঠনের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের দেওয়া পূর্বের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার পর দাবি আদায় না হওয়ায় সংগঠন দুটি ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। সেই অবরোধ তৃতীয় দিনের মতো শনিবার (২৪ অক্টোবর) অব্যাহত রয়েছে। এতে পর্যটকরা সাজেকে যেতে পারছেন না।
অবরোধের প্রথম দিনে সাজেক ভ্যালিতে প্রায় ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়ি বহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়টি সাজেকের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তাদের পথরোধ করে। দীর্ঘ সময় আলোচনার পরও অবরোধকারীরা পথ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
