ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন। সোমবার শাবওয়া প্রদেশের আল-আলম সামরিক শিবিরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে নতুন নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, প্রশিক্ষণ চলাকালে শিবিরটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা। হামলার পরপরই সরকারি কর্মকর্তারা ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো প্রথমে ১৮ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর দিয়েছিল। পরে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যেই নতুন করে এ হামলার ঘটনা ঘটল। সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়েমেনেও সংঘাত তীব্র হয়েছে।
গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থান দখল করে নেয় হুথিরা। এর পর থেকে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত হয়েছে। আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত এই গোষ্ঠীর নামের আরবি অর্থ ‘আল্লাহর সাহায্যকারী’।
হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে নতুন অভিযানও চালু করা হয়। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল পুনরুদ্ধার করাই এ অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। এসব এলাকার মধ্যে রাজধানী সানাও রয়েছে, যা ২০১৪ সালে দখল করে নেয় ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীরা।
এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করেও হামলা জোরদার করেছে হুথিরা। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা।
সোমবার সৌদি কর্তৃপক্ষ রিয়াদের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়। এতে সম্ভাব্য ‘শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলার হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি জানিয়েছেন, শাবওয়ার সামরিক শিবিরে নিহত ব্যক্তিরা ছিলেন নতুন নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এ হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
আল-আলিমি বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, চাপের মুখে পড়লে হুথি মিলিশিয়ারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নেয়।
সানা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানান, হুথিরা ইতোমধ্যে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অবস্থান থাকা একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
ইউসুফ মাওরি আরও জানান, হুথিরা এ ধরনের সামরিক স্থাপনায় ভবিষ্যতেও হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আরব-সমর্থিত সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, এমন যেকোনো স্থানকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।
এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছিল, তাইজ শহরের দক্ষিণাঞ্চলের আল-আকরৌদ, আল-শাকাব ও আল-সারারি এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বিদ্রোহীদের সমাবেশ, যানবাহন ও অস্ত্রের মজুতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এদিকে জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগে থেকেই চাপে রয়েছে তাইজ শহরের বাসিন্দারা।
সূত্র: আল জাজিরা
