রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কখনও কখনও গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।
দুর্গাপূজা এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে গতকাল বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। এ সময় তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই এ দেশের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।
সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার।
মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই এদেশের নাগরিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, অস্তিত্ব। যে কোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ সময় সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে উপস্থিত ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত দর্শনার্থী এবং অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
