আজকাল ওয়েবডেস্ক: এভারটনকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিল চেলসি। তবে শনিবারের এই জয়ের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেল গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজের মাথায় গুরুতর চোট পাওয়ার ঘটনায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এভারটনের জ্যারাড ব্রান্থওয়েটের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন তিনি। পরে স্ট্রেচারে করে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের প্রায় ৬০ মিনিটের মাথায়। বল দখলের লড়াইয়ে মার্টিনেজ ও ব্রান্থওয়েটের মাথায় সংঘর্ষ হয়। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ছুটে আসেন চিকিৎসাকর্মীরা। দু’জনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও মার্টিনেজকে আর খেলা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থায় পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ব্রান্থওয়েট সুস্থ হয়ে মাঠে থেকে যান।
স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার সময় মার্টিনেজ সচেতন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে লিভারপুলের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চেলসির কোচ জাবি আলোনসো জানান, সতর্কতামূলক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে রয়েছেন এই গোলরক্ষক।
আলোনসো বলেন, “আমি যতটা জানি, মার্টিনেজ সচেতন অবস্থাতেই স্টেডিয়াম ছেড়েছে। ও হাসপাতালে রয়েছে এবং সতর্কতামূলক পরীক্ষা চলছে। আপাতত এটুকুই জানি।”
মার্টিনেজের পরিবর্তে মাঠে নামেন ২১ বছর বয়সি মাইক পেন্ডার্স। এর ফলে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয় এই তরুণ গোলরক্ষকের। তাঁর উপস্থিতিতে ম্যাচের বাকি সময়ে আর গোল হজম করতে হয়নি চেলসিকে। পাশাপাশি, জানুয়ারির পর লিগে প্রথমবার ক্লিন শিট পেল তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি কেউ। বরং মাঠে একাধিকবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রথমার্ধেই মোট পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
https://x.com/DCITYBOY01/status/2111471531880530250
তবে বিরতির পর মাঠে ফিরেই গোল তুলে নেয় চেলসি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ৪৩ সেকেন্ডের মাথায় জোরেল হাটোর কাটব্যাক থেকে গোল করেন পেদ্রো নেতো। বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে নিচু শটে এভারটনের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, ৯০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে চেলসির জয় নিশ্চিত করেন নেতো। জর্ডান হেন্ডারসনের ফ্রি-কিক এভারটনের রক্ষণাত্মক দেওয়ালে আটকে যাওয়ার পর ফিরতি বল পেয়ে যান চেলসির এই উইঙ্গার। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়ান তিনি।
এই জয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এল চেলসি। অন্যদিকে, চলতি মরশুমে প্রথম হারের মুখ দেখল এভারটন। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বড় উদ্বেগ এখন মার্টিনেজের শারীরিক অবস্থা। তাঁর চিকিৎসা ও পরীক্ষার রিপোর্টের দিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের।
