Published on
:
2 min read
এই সময়: বারাণসীর সঙ্গে বাঙালির যেন নাড়ির যোগ। বাঙালি একদা বারাণসীকে বার্ধক্যের বাসভূমি বলে মনে করত। সে দিন গিয়েছে ঠিকই, তবু বাঙালির কাছে বারাণসী আজও তীর্থক্ষেত্র। প্রায় ২০০ বছর আগে, জীবনের শেষ ক’টি দিন কাটানোর ইচ্ছেয় বারাণসীর সোনাপুরায় কালীমন্দির ও থাকার জন্য হাওয়া মহল তৈরির কাজ ১৮৩৬ সালে শুরু করান কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ ভূপ বাহাদুর। তবে তিনি পুরো কাজ দেখে যেতে পারেননি। তাঁর পুত্র মহারাজা শিবেন্দ্রনারায়ণ প্রায় ২ একর জমিতে ওই নির্মাণকাজ শেষ করেন। কালেদিনে সে সব সম্পত্তির দায়িত্ব পায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তর। এ বার রাজ্য সরকার সেখানে আটতলা অতিথি নিবাস তৈরি করতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের যাঁরা আগামীতে বারাণসী যাবেন, স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে ওই জায়গা। বুধবার রাজ্যের পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বারাণসীর কোচবিহার কালীবাড়ি চত্বরে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুমন্ত সহায়–সহ উচ্চপদস্থ কর্তা ও বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসন সূত্রের খবর, রাজ্যের এই প্রকল্পে খরচ হবে ৮০ কোটি টাকা।
গত রবিবার, ৪ অক্টোবর বঙ্গ–বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারাণসীতে কোচবিহার কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে গিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তিনি চান, ওই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গ ভবন তৈরি হোক, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হোক। রাজ্য সরকারের মূল উদ্দেশ্য, ওই জায়গায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকে নতুন রূপ দেওয়া। ঐতিহাসিক হাওয়া মহল সংস্কারের পাশাপাশি, সেখানে বেসমেন্ট-সহ অতিথি নিবাস গড়ে তোলা হবে। বেসমেন্টে থাকবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। হসপিটালিটি সেন্টারে থাকবে ব্যাঙ্কোয়েট হল, রেস্তোরাঁ, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া এবং একটি লাইব্রেরি। প্রস্তাবিত অতিথিশালায় থাকবে ৬০টি ঘর এবং ১০টি স্যুট। মূল হাওয়া মহলটির প্রাচীন স্থাপত্যকে সম্পূর্ণ অক্ষত রেখেই সেটি নতুন করে সাজিয়ে তোলা হবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
