সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিদেশের মাটিতে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করেছে জুলাই বিপ্লবে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা। গত সোমবার দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাকে হেনস্তা করা হয়।
অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় বাংলাদেশে কড়া প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দল ও জোটের পক্ষ থেকেও ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও যৌথ বিবৃতি দিয়ে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের লবি দিয়ে হুইলচেয়ারে যাওয়ার সময় বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েক ব্যক্তি ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে নানা ধরনের কটূক্তি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উচ্চস্বরে নানা অভিযোগ তুলে ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে অপমানজনক প্রশ্ন করতে দেখা যায়। তাকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর আ টেররিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে একের পর এক কটূক্তি করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের সঙ্গীরা তাকে দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যান। হেনস্তার ঘটনাটি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) তথ্য যাচাই (Fact-checking) ও মিডিয়া বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম বাংলা ফ্যাক্টস হেনস্তাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে প্লাটফর্মটি ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, হেনস্তাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের (যুবলীগ ও ছাত্রলীগ) নেতাকর্মী। তারা হলেনÑনিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেহরাজ ফাহমি।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের তথ্য আগেই ফাঁস হয়। তিনি কখন ও কোন ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন, সে খবর জেনে ফ্যাসিস্টরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করে এর ভিডিও নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে ছড়িয়ে ওই ভিডিও ভাইরাল করা হয়।
রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করছেন। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকে এক বছর তার এই নিরাপত্তা সুবিধা বহাল থাকবে। তবে এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো সুবিধা গ্রহণ করেননি।
ইউনূস সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ড. ইউনূসের সফরটি ছিল একান্তই ব্যক্তিগত। তিনি তার মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চিকিৎসা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। এজন্য তিনি নিরাপত্তা নেননি। ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকেও এ সফরের বিষয়ে আগে কিছু জানানো হয়নি। তিনি প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার আগে যেভাবে বিদেশ সফরে যেতেন, সেভাবেই এই সফরে গেছেন। তিনি সচরাচর সফরের সময় প্রটোকল নেন না বলেও ইউনূস সেন্টার জানিয়েছে।
ড. ইউনূসকে হয়রানির বিষয়ে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক আমার দেশকে বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কে আসার আগে বাংলাদেশ মিশনকে অবহিত করেননি। এজন্য বিমানবন্দরে তাকে প্রটোকল দেওয়ার জন্য কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। সে সময়ও জেএফকে বিমানবন্দরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাকে উদ্দেশ করে নানা ধরনের স্লোগান দেয়। ওই সফরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।
এদিকে, বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ড. ইউনূসের অংশগ্রহণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও আওয়ামীপন্থি গণমাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। ওই সম্মেলনে ড. ইউনূসের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সফরটি বাতিল করেন। আয়োজকরা বলছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না তিনি। কিন্তু ইউরোপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কয়েকটি সংগঠনের আপত্তির মুখে ওই সফর বাতিল হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হয়।
দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানায়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত সম্মানিত শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের ওপর বিদেশের মাটিতে সংঘটিত হেনস্তার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একদল দুর্বৃত্ত জড়িত ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।
বাংলাদেশ সরকার আশা করে, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি এ ধরনের অসদাচরণ থেকে বিরত থাকবেন।
নিউ ইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ও এর নাগরিকের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে, সেই দুর্বৃত্তদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার।
এদিকে, সরকারের নির্দেশ পেয়ে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ মিশন।
এ বিষয়ে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক আমার দেশকে বলেন, ড. ইউনূসকে হয়রানির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড়া হবে না
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) এবং জুলাই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করা একজন অভিনেত্রীও এর আগে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে।
তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ঘাটতি হয়েছে কি না, সরকার অবশ্যই তা খতিয়ে দেখবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ড. ইউনূসসহ জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হেনস্তার ঘটনায় দেশের কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে ব্রিফিংয়ে। এক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, কোনো কোনো গণমাধ্যম এমনভাবে এসব ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করে, যাতে মনে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হেনস্তার যোগ্য ছিলেন।
এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি রয়েছে কি না, জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ উপস্থাপনের প্রবণতা সরকারের নজরে রয়েছে। প্রতিটি গণমাধ্যমেরই কোনো ঘটনাকে নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে। সেই স্বাধীনতাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ঘটনা নিয়ে অযৌক্তিক বা উদ্ভট ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটি শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। তবে সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কেউ আইনি সীমা লঙ্ঘন করলে এবং তাতে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগত প্রতিকার চাইতে পারবেন।
ড. ইউনূসের সঙ্গে অপকর্মের দায় হাসিনারই : বিরোধী দল
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে তিনি লেখেন, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট তার সন্ত্রাসীদের সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূসের সঙ্গে তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে অপকর্ম করেছে, তার দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনারই। সরকারের উচিত হবে এ ব্যাপারে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া। এরা যে ফ্যাসিস্ট, দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ অব্যাহত রেখে তা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে। শেইম...।
এদিকে, ড. ইউনূসকে বিমানবন্দরে হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার মধ্য দিয়ে দেশের সব নাগরিক এবং রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে অপমানিত করা হয়েছে। ড. ইউনূসকে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর যে কদর্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে হেনস্তা করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি তাকে হেনস্তা করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও সফররত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাই-কমিশনসমূহের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আ.লীগের চরিত্র উন্মোচন হয়েছে : নাহিদ ইসলাম
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচন করেছে।
ঘটনাটিকে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে গতকাল বিবৃতিতে নাহিদ বলেন, এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও তাদের মধ্যে নেই। দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলের গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তাদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে, ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে জাতীয় যুবশক্তি বলেছে, প্রবাসে অবস্থানরত অপশক্তির অপতৎপরতা ও মিথ্যা প্রচার রুখতে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক নাগরিককে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছে জাতীয় যুবশক্তি। সংগঠনটি ঘোষণা করছে, জুলাইয়ের চেতনাকে ভয় দেখিয়ে বা অপমান করে দমানো যাবে না। রাজনৈতিক পুনর্বাসনের যেকোনো অপচেষ্টা তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।
এবি পার্টির নিন্দা
নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে স্লোগান, অপমান ও হেনস্তার ঘটনায় আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের নিন্দা জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের গণহত্যা, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের দায় আড়াল করা যাবে না।
বিচারে ধীরগতিই অপতৎপরতার সাহস জোগাচ্ছে : ঢাকসু ভিপি
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই গণহত্যার বিচারে অস্বাভাবিক ধীরগতি ও সরকারের ভেতরের সমঝোতার চেষ্টার কারণেই পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
গতকাল দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যা এবং আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত প্রতিটি গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অস্বাভাবিক ধীরগতি ও গড়িমসি চলছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় এই দীর্ঘসূত্রতাই দলটির সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে দেশ-বিদেশে অপতৎপরতা চালানোর সাহস জোগাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিদেশে অবস্থানরত প্রধান উপদেষ্টাসহ জুলাই বিপ্লবের পক্ষের ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে বারবার হেনস্তার ঘটনা সত্ত্বেও সরকারের নির্লিপ্ততা হতাশাজনক।
নিজেদের অপরাধ ড. ইউনূসের ওপর চাপানোর চেষ্টা : সোহেল তাজ
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ ফেসবুকে পোস্টে লেখেন, হেনস্তার ভিডিও দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। কতটুক নির্লজ্জ বেহায়া হলে যারা গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করেছিল, গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল; তারাই এখন সেই দায় আরেকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এটাই হচ্ছে সাবেক স্বৈরাচার পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট, এই ট্যাবলেট খেয়ে এদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।
