
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আবু হেনা চৌধুরীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা-দালাল ও মুৎসুদ্দি পুঁজিবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই অগ্রসৈনিকের স্মরণে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সন্ধ্যায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টায় নগরের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ গেটসংলগ্ন তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সন্ধ্যা ৬টায় এনডিএফ সিলেট জেলা কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়। পরিচালনা করেন সহসাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া।
সভায় বক্তব্য দেন এনডিএফ সিলেট জেলা কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মো. আবুল ফজল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, এনডিএফের জেলা দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহ্বায়ক শুভ আজাদ শান্ত, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক পারভীনা আক্তার, সাবেক ছাত্রনেতা রমাপদ দাস, আবু হেনা চৌধুরীর ছোট ভাই জিয়াউর রহমান চৌধুরী সিপার, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলিল মীরা, বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাহাব উদ্দিন এবং মীরেরচক শ্রমজীবী সংঘের আহ্বায়ক আলী আহমদসহ অন্যরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও মুৎসুদ্দি পুঁজির শোষণ থেকে মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে হবে। বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাম্রাজ্যবাদ ও তার দেশীয় দোসরদের উচ্ছেদ করে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। আবু হেনা চৌধুরী আজীবন এই আদর্শ ধারণ ও লালন করেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধির কারণে দেশটি বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নে দেশীয় সহযোগী এবং আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের উত্তেজনা বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতমুখর করে তুলছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে সন্তুষ্ট করতে মানবিক করিডরের প্রস্তাব, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ, বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিষয়গুলো জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। সভা থেকে এসব উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, আবু হেনা চৌধুরীর আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাঁর অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করা সম্ভব।
আবু হেনা চৌধুরী ২০০৬ সালের ২৪ অক্টোবর ভোররাতে শ্বাসনালি ও খাদ্যনালির সংক্রমণজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ষাটের দশকে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে আদর্শিক বিতর্কের প্রভাবে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন সংশোধনবাদী ও বিপ্লবী—এই দুই ধারায় বিভক্ত হলে তিনি বিপ্লবী ধারার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এ সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের বিপ্লবী ধারার সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
মার্কসবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত আবু হেনা চৌধুরী ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলনসহ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন এবং কারাবরণ করেন। এ ছাড়া আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র ও গণ-আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
