শিক্ষা প্রতিনিধি।।
ভোলা সরকারি কলেজে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর একই দিন ও একই স্থানে দুই ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর কলেজ ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কলেজ প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভোলা সরকারি কলেজ শাখা। সংবাদ সম্মেলন শেষে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর কিছুক্ষণ পর পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে কলেজ ছাত্রদল।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি মো. আল আমিন লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ অক্টোবর কলেজে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ জন্য কলেজ প্রশাসনের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানটির প্রচার শুরুর দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর ছাত্রদল একই দিন ও একই স্থানে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয়। ছাত্রশিবিরের দাবি, বিষয়টি সমাধানে ছাত্রদলের কলেজ ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টুর্নামেন্টের সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া রাতে ক্যাম্পাসে টাঙানো সংগঠনটির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চান। ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রশিবির। এ সময় বক্তব্য রাখেন ভোলা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসনাঈন আহমেদ, কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আল-আমিন, সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান ও সাবেক সভাপতি আরিফ আহমেদসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের : ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিলের পর কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ভোলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত ইফতি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হোসেন শুভ ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈম হাসানসহ অন্য নেতারা।
সমাবেশে আরাফাত ইফতি অভিযোগ করেন, কলেজ প্রশাসন একটি গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে কলেজের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ছাত্রশিবিরকে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জানার পর তাঁরা এর প্রতিবাদ জানাই। এরপর কলেজ প্রশাসন ১৪ ও ১৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
কলেজ প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আরাফাত ইফতি বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ছাত্রশিবিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এস এম ফরহাদ এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পদধারি নেতা। তাই সাধারণ ছাত্ররা ওই নেতার যে ব্যানার-পোস্টার ছিল তা ছিড়ে ফেলেছে। তিনি যদি ছাত্রলীগের পদ থেকে পদত্যাগ করে থাকেন, তার প্রমাণ পত্র দেখাক; তা হলে আামাদের কোন আপত্তি নেই।
কর্মসূচি বন্ধের নির্দেশ প্রশাসনের : এদিকে ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পূর্বঘোষিত অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) তারিখের ওই বিজ্ঞপ্তিতে কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ভোলা নিউজ / টিপু সুলতান
The post ভোলায় দুই ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, বন্ধ ঘোষণা প্রশাসনের appeared first on ভোলা নিউজ.
