দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ফ্রান্স। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাট ছড়িয়ে পড়ে। এতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজধানী প্যারিসে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ৮৫৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিক্ষোভের সময় একটি টাউন হলে আগুন দেওয়া হয়, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় এবং বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে স্লোগান লেখা হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শনিবারের বিক্ষোভে কয়েক শ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় দোকানের ভাঙা কাচ, পুড়ে যাওয়া সাইকেল ও দেয়ালে লেখা স্লোগান সহিংসতার চিত্র তুলে ধরছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লিমোজ শহরে ১৪৩ বছরের পুরোনো টাউন হলে আগুন দেওয়া হয়। এতে ভবনটির একাংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
বোর্দো শহরের মেয়র জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় ১০০টি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্যারেফুরের প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্দ্র বোমপার জানান, তাদের ৫০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টিতে লুটপাট চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি ইউরো হতে পারে।
বিক্ষোভকারীদের বড় অংশ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করলেও কিছু সহিংস গোষ্ঠী সরকারি ভবন, দোকান ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের লিল থেকে দক্ষিণের মার্সেই এবং পূর্বের স্ট্রাসবুর্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের বোর্দো পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক পরিষ্কার ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কাজ শুরু করেছেন।
গত মাসে শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোতে স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা বৈষম্য, সরকারি ব্যয় কমানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও তার সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
