পুজো মিটেছে। রাজ্যে পুরভোট আসন্ন। এই আবহে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নেতা-নেত্রীদের গলায় বাজছে ভিন্ন সুর। বৃহস্পতিবার ‘রাজনীতিকে ঘৃণা করি’ বলে চোখের জলে মমতাকে বিজয়ার বার্তা দেন ঋতশিবিরে নাম লেখানো কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। শুক্রবার শিউলি সাহা বললেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী’। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানান কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক।
মদনের সুরেই সুর মিলিয়ে শিউলি সাহার দাবি করেন, তিনিও গোটা পুজোয় বাড়ি থেকে বেরতে পারেননি। বিধায়ক হিসেবে নিজের বিধানসভা এলাকায় পর্যন্ত যেতে পৌঁছতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমা যেখানকার বিধায়ক, সেখানে যেতে পারলাম না। বিডিও জানিয়েছিল সরকারি সামগ্রী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। কিন্তু আমি যেতে পারি না। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারিনি।” মদনের প্রসঙ্গ টেনে শিউলি বলেন, “মদনদা মদনদা যা বলেছেন, ঠিক। কেউ কথা রাখেনি। এটা আমার একার কথা নয়, সব বিধায়কদের একই অবস্থা।” নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে শিউলির বার্তা, “২৯৪ আসনের একটি আসনে আমি বিধায়ক। নির্বাচন কমিশন থেকে আমরা সার্টিফিকেট পেয়েছি। দিনের পর দিন নিরাপত্তার অভাবে ভুগছি।” প্রশাসনের সর্বস্তরে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিউলি। তাঁর কথায়, “এসপি, ওসি, বিডিও সকলকে জানিয়েছি। নিজের গণ্ডির বাইরে গিয়ে বিজেপি নেতাদেরও বলেছি। কিন্তু নিরাপত্তার কথা উঠতেই সবাই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কিনা, সাংবাদিকদের প্রশ্নে শিউলি সাহা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। ওঁকে প্রণাম, শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু ওঁর সামনে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি বর্তমানে নেই।” প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কেরিয়ারে ইতি টানার কথা বলেছেন মদন মিত্র। বলেছেন, “আমি রাজনীতিতে খুব ক্লান্ত। রাজনীতিকে ঘৃণা করি। সেই রাজনীতির একটা অংশ হিসেবে নিজেকেও ঘৃণা করি। কারণ আমি মনে করি মানুষের সঙ্গে বেইমানি করছি, মিথ্যে কথা বলছি, প্রতারণা করছি।” এ কথা বলতে খানিক গলা ধরে আসে তাঁর। চোখের কোনে তখন চিকচিক করছে জল। কিন্তু পর মুহূর্তের মুখে হাসি নিয়ে ধরে আসা গলাতেই মদনের বলেন, “চোখের জলটা আনন্দের। আমার ভিতরের কথাটা বলতে পারলাম। এখন চালের মধ্যে কাঁকড় বেশি। অল্প কাঁকড় হলে বেছে নেওয়া যায়, কিন্তু গোটা চালটা যদি কাঁকড়ে ভরে যায়। তাহলে চলবে না। অধার্মিক-অনৈতিক লোকে ভরে গেছে রাজনীতিটা।” ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মদনের কথায় একরকম সহমত সুর শোনা গেল তাঁরই দলের আরও এক নেত্রীর গলাতেও! রাজনীতির অন্দরে যা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
