বিএনপিকে মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত-জোটের সমন্বয় হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, ‘‘আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। যদি এ ধরনের কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নিতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।
“মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।”
এদিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে মিন্টো রোডের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন বলে জোটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হওয়ায় সেখানে আগামী ২৯ অক্টোবর উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান বলেন, ‘‘ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’’
১৯৯১ সালে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন হওয়ার পর ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত মাগুরা-২ উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তোলে তখনকার বিরোধীদল আওয়ামী লীগ।
ওই নির্বাচনের পরপরই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তোলে।
বিরোধীদের বর্জনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে। বিএনপির বাইরে ওই নির্বাচনে অংশ নেয় কেবল ফ্রিডম পার্টি।
বিরোধীদলগুলোর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিল পাস হয় ষষ্ঠ সংসদ।
এরপর ৩০ মার্চ সংসদ ভেঙে দিয়ে সংশোধনী অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় পদত্যাগ করে বিএনপি সরকার।
এ প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারব না। তাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে, ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। অজুহাত তৈরি করে পালিয়ে যাই। এরকম পরিস্থিতি তৈরি করে দিলে জনগণের কিছু বলার নাই। মাগুরার পুনরাবৃত্তি ঘটুক আমরা চাই না।
‘‘সেজন্য মাগুরা মার্কা নির্বাচন করার অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”
৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখবেন।
জামায়াত নেতা আযাদ বলেন, ‘‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি, লংমার্চ করছি।”
তিনি বলেন, ‘‘আমরা দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছি। এজন্য অবিলম্বে দুর্নীতির পথগুলো বন্ধ করা উচিত।
“এজন্য দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মানবাধিকার কমিশন, গুম, খুন রোধ করার জন্য আমরা স্বাধীন কমিশন করার কথা বলেছি।’’
৩১ অক্টোবর প্রায় ১ হাজার গাড়ির এক বিশাল বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট (বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা যাবে লং মার্চ।
এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা (সকাল ৯টা); বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড় (সকাল ১১টা); খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর (বেলা সাড়ে ১২টা) ও ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর (দুপুর ২টা); যশোরের মুড়লীর মোড় (বিকেল সাড়ে ৩টা); ঝিনাইদহের বাস টার্মিনাল (বিকাল ৫টায়) পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ৮টায় যোগ দেবে লং মার্চের বহর।
হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী; নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, এ বি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; জাগপার মহাসচিব ইকবাল হোসাইন; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম।
