৫৮তম বর্ষে উত্তরের বিগ বাজেটের পুজোগুলিকে টেক্কা দিতে তৈরি দক্ষিণায়ন ক্লাবEi Samay
Published on
:
2 min read
রনি চৌধুরী, ধূপগুড়ি
বীজ, রুদ্রাক্ষ, কড়ি, হোগলা পাতা-সহ নানা সামগ্রীতে গড়ে উঠছে কাল্পনিক মন্দির। সঙ্গে চন্দননগরের চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা। থানা রোড জুড়ে আলোকতোরণ আর জমজমাট মেলা। অভিনব ভাবনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উত্তরবঙ্গের বিগ বাজেটের পুজোগুলিকে টেক্কা দিতে তৈরি ধূপগুড়ির দক্ষিণায়ন ক্লাব। ৫৮তম বর্ষে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে একাধিক বিশেষ আকর্ষণ। উৎসবের জৌলুসের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের বার্তাও দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
ধূপগুড়ির পুজো বলতে দক্ষিণায়ন ক্লাবের নাম আসে প্রথম সারিতে। তাদের মণ্ডপের সামনে ভিড় উপচে পড়ার অপেক্ষা। হবেই না বা কেন? ৭২ ফুট উচ্চতার মণ্ডপ, চওড়ায় ৮২ ফুট। যে সব সামগ্রী দিয়ে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে, তার তালিকা বেশ দীর্ঘ। মাশরুম, কদবেলের চারা, শসা ও পেঁপের বীজ, কড়ি, রুদ্রাক্ষ, হোগলা পাতা এবং কলাগাছের খোল-সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপ। প্রায় ৩২ জন শ্রমিক দেড় মাস ধরে নিরলস ভাবে কাজ করছেন। সব উপকরই প্রাকৃতিক হওয়ায় এই মণ্ডপে এসে দাঁড়ালে অনুভূতি হবে একেবারে অন্য রকম।
তৃতীয়ার দিন পুজোর উদ্বোধন করবেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। উপস্থিত থাকার কথা জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায়, ধূপগুড়ির বিধায়ক নরেশচন্দ্র রায়, মহকুমাশাসক-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের। উদ্বোধনের পরে পাঁচ দিন ধরে গমগম করবে দক্ষিণায়নের মণ্ডপ। এই পুজো দেখার সঙ্গে বাড়তি পাওনা মেলার মজা নেওয়া। সব মিলিয়ে আনন্দের ষোলোকলা পূর্ণ। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক গেনা বসাক বলেন, 'মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি মেলায় থাকবে খাবারের দোকান, শিশুদের বিনোদন, দোলনা ও ব্রেক ডান্স। পুজো দেখার পাশাপাশি মেলার আনন্দ নিতে পারবেন দর্শনার্থীরা।' কমিটির সভাপতি চন্দন ভৌমিকের কথায়, '১৭৫ জন সদস্যের ক্লাবে পরিচালন কমিটি ২৫ জনের, পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন ১২ জন। সকলের সহযোগিতায় সুন্দর ও আনন্দমুখর পরিবেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য।'
মণ্ডপ, আলো ও মেলাকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের প্রত্যাশা উদ্যোক্তাদের। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও ভালো থাকার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের অঙ্গীকার। এই ক্লাবের কাছে পুজো শুধু উৎসবের আয়োজন নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনেরও মঞ্চ। তবে শুধু উৎসবের মরশুম নয়, বছরভর সামাজিক কাজকর্মে জড়িয়ে থাকে দক্ষিণায়ন ক্লাব। সম্পাদক অসিত পালের কথায়, 'রক্তদান শিবির, দুঃস্থ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করি আমরা। এ বারও থাকছে বস্ত্র বিতরণ ও দরিদ্র নারায়ণ সেবা।'