আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাইহান ভঢরার 'বিকানের হাউস' শিল্প প্রদর্শনী নিয়ে রাহুল গান্ধীর নীরবতাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের ভেতরেই দ্বন্দ্ব দানা বাঁধছে বলে দাবি করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শুক্রবার বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরার মধ্যে এক ধরনের সংঘাত তৈরি হচ্ছে।
বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'কংগ্রেসে এখন প্রিয়াঙ্কা বনাম রাহুল পরিস্থিতি।' রাইহান ভঢরার প্রদর্শনী থেকে কিছু ছবি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে রাহুল গান্ধীর নীরবতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। উল্লেখ্য, বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে- ওই ছবিগুলো তাদের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রদীপ ভান্ডারির দাবি, ১০ জুন বিকানের হাউসে পাঠানো রাইহানের মূল প্রস্তাবে তাঁর ছবির বিষয়বস্তু হিসাবে প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, শিল্পকর্ম ও ভাস্কর্যের ওপর আলোকপাত করা হয়েছিল। কোনও রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর উল্লেখ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, ৩০ জুন বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেও, পরবর্তীতে সেখানে বিভিন্ন প্রতিবাদের ছবি যোগ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ ছবিগুলো সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানায়।
বিজেপি মুখপাত্রের মতে, রাইহান প্রদর্শনীর জায়গার নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং শুরুতেই তিনি এমন একটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করেছিলেন যা ওই জায়গার বিধিনিষেধ মান্য করে চলার। ভান্ডারির অভিযোগ, রাইহানকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে গান্ধী পরিবার। তারই অংশ হিসেবে পরিবারের চাপে পরবর্তীতে ওই রাজনৈতিক ছবিগুলো প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিজেপি মুখপাত্র ভান্ডারি বলেন, "পরিবারের চাপে তাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য পরে রাজনৈতিক ছবিগুলো যুক্ত করা হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষ ২১ অক্টোবর সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা জানায়।" তিনি আরও যোগ করেন, "রাহুল গান্ধী, ভিয়েতনামে থেকেও পৃথিবীর নানা বিষয়ে এক্স-পোস্ট করছেন, কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত রাইহান ভঢরার সমর্থনে একটি টুইটও করেননি।"
বিতর্কের সূত্রপাত
প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা ও রবার্ট বঢরার পুত্র রাইহান অভিযোগ করেন যে, তাঁর প্রদর্শনী 'নো আইডিয়া ইজ ফাইনাল' শুরুর ঠিক আগে বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষ তাঁকে ৭০টিরও বেশি ছবি সরিয়ে ফেলতে বলে। ওই ছবিগুলোর মধ্যে জাতীয় রাজধানীতে তরুণদের নেতৃত্বে চলা সাম্প্রতিক প্রতিবাদের কিছু দৃশ্যও ছিল।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, যারা ক্ষমতায় আছেন তারা তরুণদের কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে রাইহান জানিয়েছেন যে, তিনি প্রদর্শনীর উপকরণগুলো আগেই জমা দিয়েছিলেন। প্রদর্শনী শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে কেন আপত্তি তোলা হল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
পরবর্তীতে বিকানের হাউস জানায় যে, কিছু ছবি তাদের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভেন্যুতে আয়োজিত প্রদর্শনীগুলো মূলত সংস্কৃতি ও বন্যপ্রাণী বিষয়ক হওয়ার কথা, অথচ যে ছবিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সেগুলোতে রাজনৈতিক বার্তা ছিল।
