ছবির ক্যাপশন: .
তারেক সালমান, স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি মাঠে থাকবে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল, মোবাইল টিম ও হোন্ডা মোবাইল টিম। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা নেই। এ ধরনের কোনো গোয়েন্দা তথ্যও পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৫টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। এবার জেলায় মোট ২৪০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে। পূজামণ্ডপের গুরুত্ব ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সেগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
পূজার পাঁচ দিন পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি নতুন করে মোবাইল টিম ও হোন্ডা মোবাইল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব টিম সার্বক্ষণিক টহল দিয়ে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রতিটি থানার নিজস্ব মোবাইল টিমও সংশ্লিষ্ট এলাকার পূজামণ্ডপ ও আশপাশের সড়কে নিয়মিত টহল দেবে।
বিশেষ করে পূজামণ্ডপে আগত নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পুলিশ। তাঁদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি, ছিনতাই কিংবা চুরির শিকার হতে না হয়, সে জন্য হোন্ডা মোবাইল টিম বিশেষ নজরদারি চালাবে। একই সঙ্গে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও মাঠে কাজ করবেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছে জেলা পুলিশ। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব যেন নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”—এই চেতনায় সবাই যেন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদ্যাপন করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা পুলিশ।
