Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত প্রায় ২৫ জন। শনিবার রাতে এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতার নামী পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশ। ইতিমধ্যে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক মণ্ডপ। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, চোরবাগান সর্বজনীনের ঘটনার পরেই পুজো মণ্ডপ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টালা প্রত্যয়। পুজো কমিটির ফেসবুক পেজ থেকে জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘টালা প্রত্যয়ের পুজো মণ্ডপ সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকছে...আমরা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভাবি, নিরাপদে পুজো উপভোগ করুন।’
একই ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আলিপুর সর্বজনীন এবং চেতলা অগ্রণীর পুজো মণ্ডপও। ভিড়ের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে পুজো কমিটির একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, চেতলা অগ্রণী কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পুজো বলেই পরিচিত। চোরবাগানে দুর্ঘটনার পরেই তিনি বলেছিলেন, ‘এমন ঘটনা কলকাতায় আগে কোনও দিন ঘটেনি।’ তার পরেই পুজো মণ্ডপ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে। তবে আগামী দিনে পুজো মণ্ডপগুলি ফের দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে কি না, তা জানা যায়নি।
ভিড়ে রাশ টানার কথা জানিয়েছেন সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো উদ্যোক্তা তথা বিজেপি নেতা সজল ঘোষও। নিজের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘যাঁরা আসছেন, দয়া করে ফিরে যান।’ তবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের ভিড় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অ্যালেন পার্কে আলো এবং লেজার শো-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যে ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার।
