দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বন্দর প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
বিএম ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক ও বন্দর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল হামিদের স্মরণে বিএম-৯২ ব্যাচের আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল হামিদ টানা ৩৫ বছর বিএম ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি তিনি বন্দর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাদ জুমআ নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাজহারুল আলম খান পাভেল।
বি.এম.-৯২ ব্যাচের মিল্লাত হোসেন স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি, বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মেহেদী হাসান সজীব, সদস্যসচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি আলাউদ্দিন সরকার এরিক, বি.এম.-৮৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও মরহুম হাফেজ মাওলানা আব্দুল হামিদের বড় মেয়ের জামাতা গোলাম হোসেন, বি.এম.-৯২ ব্যাচের সভাপতি মো. মোহাতার বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন মিলন, বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অভিভাবক সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকীসহ বি.এম.-৮৩, ৮৬ ও ৮৯ ব্যাচের প্রতিনিধিরা।
মরহুম হাফেজ মাওলানা আব্দুল হামিদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাজহারুল আলম খান পাভেল বলেন, আজ এমন একজন ব্যক্তির স্মৃতিচারণ ও তাঁকে স্মরণ করতে বসেছি, যাঁর কাছে ছাত্রজীবনে দোয়া চেয়েছিলাম। আজ তাঁর জন্য দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। তিনি জীবিত থাকতে তাঁকে দোয়া করার যোগ্যতা আমাদের কারও ছিল না। বি.এম. স্কুলে আব্দুল হামিদ স্যার শিক্ষকতার পাশাপাশি জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার জন্য যে গুণাবলি প্রয়োজন, তাঁর মধ্যে তার সবই ছিল।
তিনি আরও বলেন, আজ স্যারের সম্মানে বি.এম.-৯২ ব্যাচ যেভাবে তাঁকে স্মরণ করল, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সকল শিক্ষকই ছাত্রজীবনে আমাদের দ্বিতীয় পিতা। তাঁদের শিক্ষার মাধ্যমে আজ আমি বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতির আসনে বসতে পেরেছি। এখন স্কুল অ্যান্ড কলেজটি গভর্নিং বডির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হন অধ্যক্ষ। আজ আমি যে চেয়ারে বসেছি, সেখানে আসার যোগ্যতা অর্জনের পেছনে আব্দুল হামিদ স্যারের অবদান রয়েছে। ছাত্রজীবনে তিনি আমাকে ভাষা শিখিয়েছেন।
শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে পাভেল খান বলেন, আমাদের একক কোনো শিক্ষা নেই। আব্দুল হামিদ স্যারের কোনো দোষ-ত্রæটি আমার চোখে পড়েনি। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। স্যারের মৃত্যুর দিন থেকে সব স্কুল অ্যান্ড কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে নিয়ে দোয়ার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। আগামী রোববার স্কুল অ্যান্ড কলেজ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দোয়া পড়ানো হবে। এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্পন্ন হবে।
বি.এম.-৯২ ব্যাচের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে দোয়ার আয়োজন করার প্রস্তাব উঠেছে। আমরা যেকোনো দোয়ার আয়োজন সবার সমন্বয়ে করতে চাই। এখানে বি.এম.-৯২ ব্যাচসহ কয়েকটি ব্যাচের সদস্যরা রয়েছেন। সব ব্যাচকে নিয়ে বড় পরিসরে দোয়ার আয়োজন করতে চাই। সে জন্য বি.এম.-৯২ ব্যাচের পক্ষ থেকে উপকমিটির মাধ্যমে দোয়া ও মিলাদ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটি পাশে থাকবে।”
