রাজধানীর শনির আখড়ায় এক ব্যবসায়ীকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কদমতলী থানার ওসি শেখ আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর আইজিপিস কমপ্লেইন সেলে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামুন মাদবর।
মামুন মাদবর অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৫ জুলাই কদমতলীর দনিয়া এলাকার মো. আব্দুল ওয়াহিদ মোল্লার সঙ্গে ৬ বছরের জন্য (১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৩১ জুলাই ২০৩২ পর্যন্ত) একটি দোকান ভাড়া নেন ব্যবসায়ী মামুন মাদবর। চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম জামানত বাবদ ১৬ লাখ টাকা এবং মাসিক ভাড়া ৫১ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২৮ জুলাই নগদ ১০ লাখ টাকা দেওয়ার দুদিন পর ওয়াহিদ মোল্লা মারা যান। ১০ আগস্ট মালিকের স্ত্রী মাহমুদা ইসলামের ডাচ-বাংলা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাকি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু গত ১ আগস্ট দোকানে মালামাল ওঠাতে গেলে মালিকের স্ত্রী মাহমুদা ইসলাম সাথী জোরপূর্বক বাধা দেন। এই বিষয়ে গত ১৪ আগস্ট কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর— ১২০০) দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
গত ২৫ আগস্ট জিডির তদন্তের অগ্রগতি জানতে থানায় গেলে কদমতলী থানার ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান মামুন মাদবরকে তার কক্ষে ডেকে নেন। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দোকানের
মূল চুক্তিপত্রটি ওসি (তদন্ত) সজিব কুমারের নিকট জমা রাখেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অশোক কুমারকে বাদীর বিপক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান বিবাদী পক্ষের পক্ষপাতিত্ব করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুমি দোকানের চুক্তিপত্র ও দোকান কোনোটাই পাবে না। তুমি এখন ৬ লাখ টাকা ফেরত নিয়ে যাও, বাকি ১০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে না। এই ৬ লাখ টাকা ফেরত না নিলে পরে টাকা নেওয়ার জন্য ঘুরতে হবে।’ এ ছাড়া তাকে দোকানের আশেপাশে দেখলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে; একই সঙ্গে বিবাদীকে ওই দোকান অন্য কারও কাছে ভাড়া দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ওসি নিজে উপস্থিত থেকে তা উদ্বোধনের আশ্বাস দেন বলেও জানানো হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী গত ২৯ আগষ্ট ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডিসির কাছেও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামুন মাদবর জানান, কথা না শুনলে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন কদমতলীতলী থানার ওসি। একজন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। উপায়ান্তর না পেয়ে আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।
অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে কদমতলী থানার ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, দোকান কিংবা জমির ঝামেলা পুলিশ সমাধান করতে পারে না। এজন্য বিষয়টি সমাধানে আদালতের দ্বারস্থ হতে ওই ব্যবসায়ীকে বলা হয়েছিল, এতটুকুই। জিডির তদন্ত চলছে। তদন্তের পর এই বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
