বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত পরিপত্র দ্রুত প্রত্যাহার করে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। অন্যথায় পরিপত্র প্রত্যাহার না করা হলে অভিভাবকরা আইনগত পদক্ষেপসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সংগঠনের নেতারা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার দুপুরে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়ার মতবিনিময়কালে এই দাবি জানানো হয়। এ সময় সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত করায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অভিভাবক নেতারা।
বৈঠকে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাদের অবহিত করেন যে, বিগত সরকারের আমলের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রবিধানমালা সংস্কারের কাজ চলছে এবং এসংক্রান্ত সংশোধিত প্রবিধানমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় দেড় মাস আগে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে সংশোধিত প্রবিধানমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় নির্বাচন স্থগিতের পরিপত্র জারি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অতি দ্রুত বিষয়টি চূড়ান্ত করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন বোর্ড চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি অভিভাবক ঐক্য ফোরামের নেতাদের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পরামর্শ দেন।
মতবিনিময়কালে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা প্রবিধানমালায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রবিধানমালায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সদস্যদের শাস্তির বিধান চালু করা, নির্বাচিত ও অ্যাডহক কমিটিতে অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিধি প্রয়োগ (যেমন—পঞ্চম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা নির্বাচিত বা মনোনীত হতে পারবেন না), এমপিওভুক্ত শিক্ষক ছাড়া কেউ শিক্ষক প্রতিনিধি হতে না পারা এবং অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা যাতে চলমান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন তা নিশ্চিত করা। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়ালে তাদের বিভিন্ন মেয়াদী শাস্তির আওতায় আনার জন্যও জোর দাবি জানান নেতারা।
