ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠায় দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে নরওয়েজীয় শরণার্থী পরিষদ। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির অধিকারবিষয়ক কার্যক্রমের ব্যবস্থাপক অ্যালিসন বটমলি বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আগেই ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে ভুগছিল। নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, ইয়েমেনের তাইজ অঞ্চলে সংঘাতের সম্মুখসারিতে পরিবর্তনের কারণে বেসামরিক মানুষ বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়ছে। পাশাপাশি জরুরি পণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে খাদ্যের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বটমলি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ময়দার মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, জ্বালানির সংকটের কারণে পানি সরবরাহব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে।
সংস্থাটির সহায়তায় পরিচালিত বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর কয়েকটির আকার কিছু এলাকায় দ্বিগুণ হয়েছে। সংঘাত থেকে বাঁচতে এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় মৌলিক সামগ্রী নেই।
বটমলি বলেন, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা প্রায় একই। তাদের অনেকেই জীবন বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ছেড়েছে, সঙ্গে আনতে পারেনি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও। সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইয়েমেনে খাদ্য, জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। এতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকে পড়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হলে সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।