জামায়াতে ইসলামী জনগণকে জান্নাতের পথ প্রদর্শনের দাবি করলেও দলটির কথিত সেই ‘জান্নাতের পথ’ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন।
বুধবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপট টেনে দলটির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমির দাবি করেছেন তাঁদের দল মানুষকে জান্নাতের সন্ধান দেয়। এর বিপরীতে হাদিসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে শেষ জমানায় দাজ্জালও মানুষকে জান্নাত দেখিয়ে তার আনুগত্য স্বীকার করাতে চাইবে। এ সূত্র ধরে জামায়াত প্রকৃতপক্ষে মানুষকে কোন জান্নাতের পথ দেখাতে চাইছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
দলটির বিভিন্ন দ্বিমুখী অবস্থানকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের আগে বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমতায় গেলেও শরিয়া আইন কায়েম না করার বার্তা দেওয়া কিংবা গাজী নজরুল ইসলামের ভূমিকা—কোনটি তাদের প্রকৃত পথ? একই সঙ্গে শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালানো এবং রোজা ও পূজাকে এক কাতারে ফেলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগও তোলেন তিনি।
নির্বাচনী রাজনীতিতে জামায়াতের নীতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করে এখন ‘হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা’ প্রচার করা হচ্ছে। একদিকে কৃষ্ণ নন্দীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া এবং অপরদিকে ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে জান্নাতের বার্তা দেওয়ার পরস্পরবিরোধী অবস্থানকেও তিনি সামনে আনেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে দলটির ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত না করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা প্রকৃতপক্ষে জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা। পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন, অসত্য ও প্রতারণার আশ্রয়ে জামায়াত যে জান্নাতের রূপরেখা দিচ্ছে, তা মূলত দাজ্জালের জান্নাত বৈ অন্য কিছু নয়।
