অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়া সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বগুড়ার অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ, প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ এবং বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ।
গতকাল সকালে বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টরা।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সুবিধার্থে বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’
শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং প্রধান মহাসড়কগুলো চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
যানজট নিরসন ও নগরায়ণের প্রাথমিক কাজের জন্য এরই মধ্যে ৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়া সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার টেকসই উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর অবকাঠামো শক্তিশালী করতে আরো ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
তিনি জানান, দ্রুতই বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু হবে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বহুমুখী উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলার ডাকবাংলো ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
বগুড়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ‘জেলাটি কৃষিতে উদ্বৃত্ত অঞ্চল। বছরে এখানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে।’ তার দাবি, গত ২০ বছরে বগুড়া কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান সরকার বগুড়াকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
দেশজুড়ে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং গোপালগঞ্জের জন্য ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদাহরণ দেন। উন্নয়ন কার্যক্রমে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
